ইসরায়েল নতুন উদ্যমে গাজায় অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। গাজায় অভিযান বাড়ানোর অংশ হিসেবে কয়েক হাজার সংরক্ষিত সেনা তলব করা হয়েছে। গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনাটি অনুমোদন পাওয়ার কথা।
এদিকে নতুন যুদ্ধবিরতি চেষ্টাকে কেন্দ্র করে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারকে কটাক্ষ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, কাতার ‘দ্বিমুখী বক্তব্য দিয়ে দুই পক্ষকেই খুশি রাখার চেষ্টা করছে’। কাতারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ‘তারা কি সভ্যতার পক্ষে, নাকি হামাসের বর্বরতার পাশে?’ ‘ইসরায়েল এই ন্যায্য যুদ্ধ ন্যায়সংগত উপায়েই জিতবে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জবাবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক্স পোস্টে নেতানিয়াহুর মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি লেখেন, ‘কাতার উসকানিমূলক বক্তব্যকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে... এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্বের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল ইসরায়েলের একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, সেনাবাহিনী সংরক্ষিত সেনাদের তলব করতে শুরু করেছে। তারা ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিমতীরের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকারী কনসক্রিপ্ট (বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগদানকারী) ও নিয়মিত সেনাদের স্থলাভিষিক্ত হবে। আর এসব কনসক্রিপ্ট ও নিয়মিত সেনাকে গাজায় মোতায়েন করা হবে।
সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র উল্লিখিত প্রতিবেদনগুলো স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি। তবে বার্তা সংস্থা এএফপির ইসরায়েলি সাংবাদিকদের কিছু আত্মীয় বলেছেন, তাদেরও তলব করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সর্বাত্মক হামলার ১৪ মাস পর গত জানুয়ারিতে হামাসের সঙ্গে দেশটি যুদ্ধবিরতিতে যায়। কিন্তু দুই মাস পর গত ১৮ মার্চ তা লঙ্ঘন করে গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসর নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য চেষ্টা করছে।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল রাতে ইসরায়েলের হামলায় গাজার বিভিন্ন স্থানে তিন শিশুসহ আরও ১১ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছে। মধ্য মার্চে ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরুর পর থেকে গাজায় অন্তত ২ হাজার ৩৯৬ জন মারা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট প্রাণ হারাল ৫২ হাজার ৪৯৫ জন। তবে নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা।
গত শনিবার ইসরায়েলের বেন গুরিওন বিমানবন্দর এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে ছয়জন আহত হয়েছে। বিস্ফোরণে মাটিতে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। হামলার পর সাময়িকভাবে উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল। ইয়েমেনের হুতি দাবি করেছে, তারা একটি ‘হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে’ এ হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে ‘একাধিক চেষ্টা চালানো হয়েছে’। আহত হওয়ার ঘটনা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হয়েছে, না ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তিকে ফাঁকি দিয়ে সফল হামলা চালানোর জন্য হুতির প্রশংসা করেছে হামাস। গাজা যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর থেকে লোহিত সাগরের বিভিন্ন জাহাজ ও ইসরায়েলকে নিশানা করে হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইরানের সহায়তাপুষ্ট গোষ্ঠীটি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য হুতিদের লক্ষ্য করে ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন স্থানে পাল্টা বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।