গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীর যত্ন

ডায়াবেটিস : রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক র‌্যানডম (≥ ৭.৮)-এর বেশি থাকলে ডায়াবেটিস রোগ আছে বলা হয়।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস : গর্ভাবস্থায় রোগীরা দুভাবে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসতে পারে।

১. গর্ভধারণের আগে থেকেই তার ডায়াবেটিস আছে।

২. গর্ভাবস্থায় নতুন করে প্রথম তার ডায়াবেটিস হয়েছে (গর্ভকালীন ডায়াবেটিস)

শতকরা ১১৪% প্রেগনেন্সি বা গর্ভবতী মাদের ডায়াবেটিস রোগ থাকে। এর মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ গর্ভকালীন ডায়াবেটিস।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস : গর্ভকালীন সময়ে রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের বেশি থাকে।

ঝুঁকিপূর্ণ কারা 

১. পরিবারের সদস্য (মা, বাবা, ভাই, বোন, চাচা, মামা, খালা, ফুপু, দাদা, দাদি) আগে থেকেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

২. পূর্বের গর্ভকালীন ইতিহাস :

অতিরিক্ত ওজনের বাচ্চা প্রসব ৪ কেজির বেশি।

মৃত বাচ্চা প্রসব।

বাচ্চা হওয়ার পরে মারা যাওয়া।

আগের প্রেগনেন্সিতে ডায়াবেটিস ছিল।

৩. বর্তমান গর্ভাবস্থায় পেটে বেশি পানি থাকা, পুনঃপুনঃ অতিরিক্ত সাদা স্রাব যাওয়া ও মাসিকের রাস্তায় চুলকানো।

৪. বয়স ৩০ বছরের বেশি।

৫. অতিরিক্ত ওজন।

রোগ নির্ণয় 

প্রতিটি গর্ভবতী নারী গর্ভাবস্থা শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করবেন। (RBS)

যারা ঝুঁকিপূর্ণ তারা অবশ্যই OGTT টেস্ট করবেন।

চিকিৎসা 

পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে খাদ্যতালিকা মেনে চলবেন। সীমিত ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস করা।

ওষুধ :  ইনসুলিন একমাত্র নিরাপদ ওষুধ।

শুধু ২৫% গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন লাগে।

যেসব রোগীর ইনসুলিন লাগবে তারা অবশ্যই নিজে মেশিন কিনে ডায়াবেটিস বাসায় মাপা শিখবেন এবং নিজে ইনসুলিন নেওয়া শিখবেন।

ডেলিভারি

যাদের ইনসুলিন লাগে না তারা নরমাল রোগীদের মতো স্বাভাবিক (৩৯ সপ্তাহ) সময় প্রসব করাবেন। ব্যথা উঠলে প্রসব করাবেন। কিন্তু যারা ইনসুলিন নিচ্ছেন, তারা অব্যশই ৩৮ সপ্তাহর কাছাকাছি সময়ে প্রসব করাবেন।

ফলোআপ

প্রসবের এক থেকে দেড়  মাস পর OGTT করবেন।

শতকরা ৫০ ভাগ রোগীর ডায়াবেটিস থেকে যায় স্থায়ীভাবে এবং শতকরা ৫০ ভাগ রোগীর পরবর্তী প্রেগনেন্সিতে হতে পারে।