যশোরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০০ এএম

যশোরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন উপজেলায় নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। কোথাও ভাইভা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় নাম ওঠার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে সমালোচনা। গত রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেশবপুর ইউএনওর কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভও করেছেন নিয়োগবঞ্চিতরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী পদে নিয়োগের ফল প্রকাশ করা হয় গত শুক্রবার। সংশ্লিষ্ট ইউএনও ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তারা নিজেদের ফেসবুক আইডিতে ফলাফলের তালিকা প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই ফলাফল ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে ঝিকরগাছা ও কেশবপুর উপজেলায়। এ বিষয়ে কেশবপুর ইউএনও রেকসোনা খাতুনকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।

পরীক্ষা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় : ঝিকরগাছায় ফল প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে নিয়োগপ্রত্যাশীদের নানা অভিযোগ সামনে আসে। একাধিক প্রার্থী দাবি করেছেন, পরীক্ষা বা ভাইভায় অংশ না নিয়েও কেউ কেউ চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে পানিসারা ইউনিয়নের মণিরুল ইসলামকে নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি তথ্যসংগ্রহকারী পদের ভাইভায় অংশ না নিলেও চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম রাখা হয়। বিষয়টি সামনে আসার প্রায় তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তার ফল বাতিল করা হয়। ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব মো. তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংশোধনীতে ঘটনাটিকে ‘তথ্যগত ত্রুটি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিয়োগপ্রত্যাশীদের একাংশ এটিকে নিছক তথ্যগত ভুল হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, একজনের ক্ষেত্রে ভুল হলে তা মেনে নেওয়া যেত; কিন্তু পরীক্ষা না দেওয়া একাধিক ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকার অভিযোগ উঠেছে। ফলে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ : ফল প্রকাশের আগেই নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন ঝিকরগাছা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি লিখেছিলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে ছাত্র কোটায় একজন নাকি আগেই নির্বাচিত হয়েছেন, এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে।

নিয়োগপ্রত্যাশী নাসিমা জাহান নিশি বলেন, অনেক কষ্ট করে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েও তিনি ওয়েটিং লিস্টে রয়েছেন। অথচ পরীক্ষা না দেওয়া একজনকে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শফিকুল ইসলাম নামে আরেক প্রার্থী বলেন, পরীক্ষায় ভালো করার পরও রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাবের কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ঝিকরগাছা ইউএনও ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন কমিটির সভাপতি সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার রয়েছে। ফেসবুকে কে কী লিখছেন, সে বিষয়ে তার জানা নেই। তার দাবি, নিয়োগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই হয়েছে। তবে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে তদন্ত করতে পারে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত