এএফডিকে নিষিদ্ধের পক্ষে অর্ধেক জার্মান

জার্মানির সবশেষ নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া এএফডিকে সম্প্রতি ‘উগ্রবাদী চরমপন্থি’ দল হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, জাতিগত প্রশ্নে দলটির অবস্থান গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এএফডিকে চরমপন্থি হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর দলটিকে নিষিদ্ধ করা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে জার্মানির রাজনীতিতে। এক জরিপে উগ্র-ডানপন্থি রাজনৈতিক দল এএফডিকে নিষিদ্ধের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন প্রায় অর্ধেক জার্মান। রবিবার এক প্রতিবেদনে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানায়, আইএনএস নামের একটি সংস্থার প্রতিনিধিত্বমূলক এক জরিপে ৬১ শতাংশ জার্মান এএফডিকে উগ্রবাদী চরমপন্থি হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। ৪৮ শতাংশ ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা রাজনৈতিক দলটিকে নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। ৩৭ শতাংশ নিষিদ্ধের বিপক্ষে আর ১৫ শতাংশ এই বিষয়ে জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন।

জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, এএফডি নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীকে সমাজে সমানভাবে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে। সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার জন্য দলটি ঘৃণামূলক বক্তব্য ও উস্কানি দিয়ে আসছে। আইএনএস-এর জরিপে ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন এএফডিকে নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে। ৩৯ শতাংশ বলেছেন এতে গণতন্ত্রের ক্ষতি হবে। ১৬ শতাংশ মনে করেন এর কোনো প্রভাবই পড়বে না। ১০ শতাংশ জানেন না বলে মত দিয়েছেন।

তবে জার্মানির মূল দলগুলোর রাজনীতিবিদদের অনেকেই এএফডিকে নিষিদ্ধের বিপক্ষে। এমনকি দলটিকে চরমপন্থি হিসেবে ঘোষণা দেওয়াকেও সমর্থন করছেন না কেউ কেউ। নিজের নামে নতুন দল প্রতিষ্ঠাকারী আলোচিত রাজনীতিবিদ সাহরা ভাগেঙ্কনেশটসহ দেশটির বেশ কিছু রাজনীতিক এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ইউরোপের বিভিন্ন ডানপন্থি রাজনীতিক ও দলের পাশাপাশি জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসনও। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বার্লিনের এমন পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমারা একত্রে বার্লিন ওয়াল ভেঙে ফেলেছিল। এখন জার্মান শাসকগোষ্ঠীর মাধ্যমে সেটি পুনর্নির্মিত হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক এক্স পোস্টে লেখেন এটা মোটেও গণতন্ত্র নয়, ছদ্মবেশি নির্দয় শাসন। রুবিওর দেওয়া সেই পোস্টের পাল্টা জবাবে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে, এটাই গণতন্ত্র। স্বতন্ত্র ও বিস্তারিত তদন্তের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।