পরমাণু ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এমনকি পরমাণু চুক্তি না করলে দেশটিতে সরাসরি হামলার হুমকিও দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রবিবার ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দর বেন গুরিয়নের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। এ ঘটনার পর ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হামলার হুমকি দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার জবাবে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল আক্রমণ করলে তেহরান পাল্টা জবাব দেবে। রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এমন হুঁশিয়ারি দেন নাসিরজাদে। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল শুরু করে, তাহলে ইরান তাদের স্বার্থ, ঘাঁটি এবং বাহিনীগুলোর ওপর হামলা চালাবে। তেহরান যখনই প্রয়োজন বলে মনে করবে তখনই হামলা হবে, সেটি যেখানেই হোক না কেন। ইসরায়েলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, হুথিদের হামলার উৎস ইরান। আমাদের প্রধান বিমানবন্দরের ওপর হুথিদের হামলার জবাব দেবে ইসরায়েল এবং উপযুক্ত সময় ও স্থানে ইরানি সন্ত্রাসে আস্থাবানদেরও জবাব দেওয়া হবে। নাসিরজাদে সরকারিভাবে প্রচারিত বক্তব্যে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, হুথিরা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে কাজ করে। ইরান সমর্থিত হুথিরা বলছে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি জানাতেই তারা হামলা চালাচ্ছে। ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিরা হামাস যোদ্ধাদের সমর্থনে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ মার্চ থেকে ইয়েমেনে হুথিদের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, হুথিদের যেকোনো হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাসিরজাদের এই বক্তব্যের আগে রবিবার ইরান নতুন একটি কঠিন জ্বালানিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে যার নাম ‘কাসেম বাসির’। এর পাল্লা এক হাজার ২০০ কিলোমিটার। এই ক্ষেপণাস্ত্র উন্নত নির্দেশনা ও গতিশীলতার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম এবং জিপিএস ছাড়াই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।