বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে জাতিসংঘ। এমন পরিস্থিতিতে ব্যয় কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সম্প্রতি ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ব্যয় সংকোচনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জাতিসংঘ। বন্ধ করা হয়েছে নতুন নিয়োগ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের ইস্ট রিভারে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের এস্কেলেটরটি প্রায়ই বন্ধ থাকছে। পরিস্থিতি এমন যে, দেউলিয়া হওয়া এড়াতে ২০২৫ সালের বাজেটে ৬০০ মিলিয়ন ডলার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের মোট বাজেটের প্রায় ১৭ শতাংশ। গত বছর জাতিসংঘের বাজেট ঘাটতি ছিল ২০০ মিলিয়ন ডলার। এ বছর পরিস্থিতি আরও খারাপ। অভ্যন্তরীণ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, কাটছাঁট না করলে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। জাতিসংঘের মহাসচিব সদস্য দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সংস্থার হাতে অর্থ ফুরিয়ে যাবে। ফলে ব্যাহত হবে শান্তিরক্ষা মিশনসহ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম।
ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাধ্যতামূলক তহবিল পরিশোধ না করাই এ সংকটের মূল কারণ। ২০২৪ সালে ৪১টি দেশ মোট ৭৬০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রেখেছে। এ তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশ। সময়মতো তহবিলের অর্থ দিয়েছে মাত্র ৪৯টি দেশ। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দেশকে বছরের শুরুতেই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু অনেক দেশ তা বছরের শেষ দিকে দিচ্ছে। চীন গত বছর তহবিলের অর্থ দিয়েছে ২৭ ডিসেম্বর। এদিকে ২০২৬ সালে জাতিসংঘকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হবে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় তিনগুণ বেশি।
২০২৭ সালে এ অঙ্ক দাঁড়াবে ৬০০ মিলিয়নে। জাতিসংঘের অর্থ বিভাগের প্রধান চন্দ্রমৌলি রামানাথন জানান, যদি যুক্তরাষ্ট্র তার ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক তহবিল বন্ধ করে দেয়, তাহলে সংস্থাটি গভীর আর্থিক সংকটে পড়বে। দেশটির কংগ্রেসের বিলম্বিত অনুমোদনের কারণে অনেক সময়ই তহবিলের অর্থ আসতে দেরি হয়। চলতি মেয়াদে ট্রাম্প জাতিসংঘে পুরোপুরি তহবিল বন্ধ করে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ সনদের ১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ টানা দুই বছর তহবিলের অর্থ না দিলে সাধারণ পরিষদে তার ভোটাধিকার স্থগিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট বকেয়া এখন প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, যা দুই বছরের ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সীমার নিচে। তবে যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থ পরিশোধ না করেন, তাহলে আগামী বছরের বাজেটে যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়মের আওতায় পড়বে এবং ২০২৭ সালে তাদের ভোটাধিকার বাতিল হয়ে যাবে।