প্রিয় প্রাঙ্গণ থেকে ব্যারিস্টার রাজ্জাককে শেষ বিদায়

প্রিয় প্রাঙ্গণ সুপ্রিম কোর্ট থেকে চিরবিদায় নিলেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। গতকাল তাকে সুপ্রিম কোর্টে শেষ বিদায় জানানো হয়। বেলা ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে তার জানাজা হয়। জানাজায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও বিপুলসংখ্যক আইনজীবী অংশ নেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক গত রবিবার বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে কিছুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় প্রবীণ এই আইনজীবীকে। তার মৃত্যুতে আইন ও বিচারাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। ব্যারিস্টার রাজ্জাকের প্রতি সম্মান জানিয়ে গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টে অর্ধদিবস বিচারকাজ চলে। আপিল বিভাগে বেলা ১১টা পর্যন্ত এবং হাইকোর্টে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত বিচারকাজ হয়। রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের প্রথম জানাজা হয়। গতকাল সুপ্রিম কোর্টে তার জানাজা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার ছেলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, সাবেক বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমুখ। এ ছাড়া সহস্রাধিক আইনজীবী জানাজায় অংশ নেন। জানাজার পর সুপ্রিম কোর্ট বার ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষে মরহুমের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্টে জানাজা শেষে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। সেখানে তার তৃতীয় জানাজা হয়।

১৯৪৪ সালে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের শেখলাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুর রাজ্জাক। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮০ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে বার এট ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালে তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ১৯৮৮ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৪ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকার্ভুক্ত হন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।