সারা দেশে বজ্রপাতে তিন সহপাঠীসহ নিহত ৬

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বজ্রপাতে একই গ্রামের তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরটেকী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তারা তিনজনই ওই গ্রামের বাসিন্দা ও চরটেকী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।

চরটেকী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আমিনুল হক জানান, বজ্রপাতে নিহত ফারিয়া জান্নাত ইরিনা (১৫) ওই গ্রামের জালাল উদ্দীনের মেয়ে, আদ্রিতা ইসলাম প্রিয়া (১৫) একই গ্রামের বাদল মিয়ার মেয়ে ও হিমা আক্তার বর্ষা (১৫) বোরহান উদ্দিনের মেয়ে। গতকাল দুপুর ১টায় শ্রেণি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় তারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে ফারিয়া জান্নাত ও আদ্রিতা ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত বর্ষা আক্তারকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কিশোরগঞ্জে রেফার্ড করেন। কিশোরগঞ্জে নেওয়ার পথে সেও মারা যায়। পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নুরে আলম খান জানান, বজ্রপাতে আক্রান্ত ফারিয়া জান্নাত ও আদ্রিতা ইসলাম ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিল্লাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা করা হবে।

এদিকে গতকাল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পশ্চিম বিষয়খালী ও ভবানীপুর গ্রামের মাঠে ধান কাটার কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরের দিকে সদর উপজেলার পশ্চিম বিষয়খালী ও ভবানীপুর গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, পশ্চিম বিষয়খালী গ্রামের শাহাজ্জেল হোসেনের ছেলে মিরাজুল ইসলাম। ও ভবানীপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে অলিয়ার রহমান।

স্বজনরা জানায়, সকালে মাঠে ধান বাঁধতে যান মিরাজুল। এর পরে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় অন্যরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিলেও বজ্রপাতের কবলে পড়েন মিরাজুল। পরে আহতাবস্থায় তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অন্য দিকে নিহত অলিয়ার রহমানের স্বজনরা জানায়, সকালে মাঠে ধান গোছানোর কাজে বাড়ি থেকে বের হন অলিয়ার। দুপুরে দিকে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় মাঠে থাকাবস্থায় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক খালিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে আহত দুই কৃষক হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। মরদেহ দুটি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে জাকির হোসেন নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের পাশের হাওরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির জামালগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের মালিক উস্তারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জামালগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী হাওরে নিজের জমিতে ধান কাটতে যান কৃষক জাকির হোসেন। ওই সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। একপর্যায়ে হঠাৎ বজ্রপাতে জাকির মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে কর্মরত অন্য কৃষকরা জাকির হোসেনকে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জামালগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বজ্রপাতে নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।