দীর্ঘদিন রাশিয়ায় চিকিৎসার পর দেশে ফিরেছেন অভ্যুত্থানে আহত খোকন চন্দ্র বর্মণ। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে কাতার এয়ারলাইনসের কিউআর ৬৪০ ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান। তাদের স্বাগত জানান বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামীমা সুলতানা। খোকন এখন ভালো আছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
খোকনের মুখের রিকনস্ট্রাকশন সার্জারির উন্নত চিকিৎসার প্রথম ধাপের জন্য সরকার তাকে রাশিয়া পাঠায়। গত ২২ এপ্রিল রাশিয়ার স্থানীয় একটি হাসপাতালে তার প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রথমে তার মুখের থ্রিডি মডেল তৈরি করা হয়। এরপর তার নিচের চোয়ালে টাইটেনিয়ামের পাত বসানো এবং অস্টিওসিন্থেসিস করা হয়। অপারেশনের সময় তার মুখ থেকে তিন-চারটি বুলেটের (ছররা বুলেটের) অংশ বের করা হয়।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি শুরু থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহতদের উন্নত চিকিৎসার সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন।
খোকনের সঙ্গে রাশিয়ায় অপারেশনের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে কাজ করছেন। পেশায় তিনিও একজন সার্জন।
ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, দ্বিতীয় ধাপের অপারেশনে ওপরের চোয়াল (ম্যাক্সিলা) রিকনস্ট্রাকশন নিয়ে কাজ করা হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। খোকনের চিকিৎসায় অপারেশনের দ্বিতীয় ধাপটি সবচেয়ে জটিল। এ ধাপে খোকনের মুখের অবয়ব নির্ধারণ করা হবে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে রাশিয়ার একজন জাতীয় অধ্যাপক ও দুজন অধ্যাপক এ অপারেশনটি করবেন। সেই সঙ্গে জুলাই মাসে তার বাম চোখের এনুক্লেশন করা হবে। এটি একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতিÑ যার মধ্যে চোখ (চোখের বল) এবং এর বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়। তৃতীয় ধাপে খোকনের নাক তৈরির সার্জারি করা হবে। বুকের পাঁজরের হাড় থেকে নাক তৈরি করা হবে। সর্বশেষ ধাপ হতে পারে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে।