বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘দেশের মানুষ যেন তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করলেই দেশের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’ তিনি বর্তমান সরকারকে গণতন্ত্রের প্রতি প্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’- এর আয়োজনে এক নাগরিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
দুদু বলেন, ‘গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে অতীতের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। বিএনপি এবং ছাত্র জনতা আপনাকে (প্রধান উপদেষ্টা) ক্ষমতায় বসিয়েছিল, তা মনে রাখা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। তার নেতৃত্বেই ’৯০’র গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল। এখন তাকে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে গণমানুষ স্বাগত জানাচ্ছে।’
দুদু অভিযোগ করেন, ‘১৫ বছরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৫ হাজার নেতাকর্মী গুম, খুন ও নিখোঁজ হয়েছে। সরকার যদি গণতন্ত্র না মানে, তাহলে ইতিহাসের মতো তারাও একদিন পালাতে বাধ্য হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ।
এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আরেকটি প্রতীকী অবস্থানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ত্রাণ পাঠাতে “মানবিক করিডর” না দিয়ে সরাসরি সহায়তা দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে সুনাম কুড়িয়েছে। রাখাইনকে সহায়তা দেওয়ার শক্তি বাংলাদেশের আছে, করিডর দিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে জড়ানো উচিত হবে না।’
ড. ইউনূসের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি দেশের জন্য সম্মান এনেছেন। তবে নির্বাচন নিয়ে যেন কোনো চক্রান্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ এখন একটি অবাধ নির্বাচন চায়। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। আর কোনো বিলম্ব জনগণ মেনে নেবে না।’
জাতীয় নাগরিক পরিষদের সভাপতি ডা. মাইনুল ইসলাম বাদল তালুকদারের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক মো. সোলায়মান তালুকদারের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুন অর রশিদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, নির্বাহী সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রমুখ।