দেশে প্রয়োজনে আইন করে থ্যালাসেমিয়া বাহকে বাহকে বিয়ে বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, একমাত্র বাহকে বাহকে বিয়ে বন্ধের মাধ্যমেই সম্ভব থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ। কারণ স্বামী-স্ত্রী উভয়ে থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে বাহক না হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার আশঙ্কা নেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)-বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা এই পরামর্শ দেন। দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে গণমানুষকে সচেতন করাসহ প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এই রোগ প্রতিরোধে স্কুলপর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। বিএমইউতে রক্তরোগ-সংক্রান্ত গবেষণা ত্বরান্বিত করা হয়েছে। বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট (বিএমটি) সেন্টার চালুর বিষয়টি একনেকে পাস হয়েছে। এখানে পূর্ণাঙ্গভাবে বিএমটি চালু হলে রক্তরোগ-সংক্রান্ত অনেক রোগীর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না।
বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি জেনেটিক ডিজিজ। এই রোগ প্রতিরোধে থ্যালাসেমিয়ার দুই বাহকের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করা প্রয়োজন। স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়ার বাহক চিহ্নিত করা সম্ভব। আবার গর্ভাবস্থায়ও অনাগত শিশুটি থ্যালাসেমিয়ার রোগী কি না তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সঠিক, উন্নত ও সহজ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল করিম বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসার নতুন আশার আলো হলো রক্তের পাশাপাশি ওষুধ দিয়েও রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে। ওষুধ দিয়েও এই রোগীদের চিকিৎসা করা সম্ভব এবং প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া একটি জন্মগত রোগ। রোগীরা রক্তশূন্যতায় ভোগে। অনেক সময় রক্তের অভাবে মারা যায়। এ ধরনের রোগীদের সুস্থ করার জন্য বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন করা প্রয়োজন। কিন্তু বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে সঠিক দাতার অভাব, চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতা ও চিকিৎসাসেবা ব্যয়বহুল হওয়ায় করা সম্ভব হয় না। তাই রোগীদের সারা জীবন রক্তের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন।
এই চিকিৎসক পরামর্শ দিয়ে বলেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে দুই বাহকের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করতে প্রয়োজনে সরকারকে আইন করতে হবে। তাহলে থ্যালাসেমিয়ার অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব। একজন থ্যালাসেমিয়া রোগী পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এই চিকিৎসক জানান, দেশে ৬০-৮০ হাজার থ্যালাসেমিয়ার রোগী রয়েছে। থ্যালাসেমিয়া বাহকের সংখ্যা দেড় কোটি থেকে দুই কোটি। বিএমইউয়ের শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলোজি বিভাগের বহির্বিভাগে প্রতি মাসে প্রায় ৫০০ শিশু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।