কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে যুথী খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ মে) বেলা ১২টায় উপজেলার কয়া ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুথী খাতুন একই এলাকার রাজমিস্ত্রি সোহেল রানার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে কয়া শেখপাড়া এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে সোহেল শেখকে প্রেম করে বিয়ে করেন উপজেলার সদরপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে যুথী খাতুনকে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। এরই মধ্যে তাদের কোল জুড়ে সংসারে আসে দুই সন্তান। তারপরেও চলতে থাকে স্বামীর নির্যাতন। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়। একপর্যায়ে স্বামীর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন যুথী। এরপর মাসখানেক আগে কুষ্টিয়া বিজ্ঞ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন যুথী। মামলা চলাকালীন সময়ে সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য ফের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট, আইনজীবি ও স্বজনরা তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠান। আর শ্বশুর বাড়ি আসার মাত্র সাতদিনের মাথায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের দাবী, রাতে যুথীকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে পালিয়েছে ঘাতক স্বামী ও শাশুড়ি। এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।