যমুনামুখী ছাত্র-শিক্ষকের মিছিলে পুলিশের বাধা

তিন দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে এবং জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। কাকরাইল মসজিদ মোড়ে রাস্তায় অবস্থান নেন। শিক্ষক ও ছাত্রদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার বিচারে আঘাতকারী পুলিশকে চিহ্নিত করার দাবি করেন তারা।

জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, ‘আমার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করব।’

এর আগে ৭০ শতাংশ আবাসন ভাতা, বাজেট বৃদ্ধি এবং সব প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়ার তিন দফা দাবি নিয়ে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি। মিছিল কাকরাইল এলাকায় পৌঁছলে সেখানে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। প্রথমে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও পরে তারা ফিরে এসে কাকরাইল মসজিদ মোড়ে রাস্তার ওপর বসে পড়ে।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনায় প্রবেশ করতে চেয়েছিল। তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যাচ্ছিল। তখন পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, পানি নিক্ষেপ করে। অন্যদিক থেকে আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছে।

জবির সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা : দ্রুত আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, কিছু একটা ঘটলেই যমুনায় যাওয়ার প্রবণতা সহ্য করা হবে না। এ ক্ষেত্রে সরকার কঠোর হবে। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জবি প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাতে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি চক্র তার ওপরে আক্রমণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন উপদেষ্টা মাহফুজ।

এর আগে বেলা ৩টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন, ব্যবসায় অনুষদের ডিন মঞ্জুর মোর্শেদসহ বিশ^বিদ্যালয় প্রতিনিধিদল যমুনায় আলোচনার জন্য প্রবেশ করে।