জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিলুপ্তিকে ‘কসমেটিক সংস্কার’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ বাংলাদেশের অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক প্রকৃতি সবসময় ঠিক বুঝতে পারে না। ফলে তাদের টেক্সট বুক প্রেসক্রিপশনগুলোর তাত্ত্বিক শক্ত ভিত্তি থাকলেও, এগুলো আমাদের আর্থিক ব্যবস্থার মূল সমস্যার কোনো বাস্তব সমাধান প্রদান করতে পারবে না।’
গতকাল বুধবার সকালে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে গণমাধ্যমকে ড. মঈন এসব কথা বলেন। ড. মঈন বলেন, ‘এনবিআর সম্পর্কিত আমাদের আসল সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। সেক্ষেত্রে কেবলমাত্র সাইনবোর্ডের পরিবর্তন অথবা রিব্র্যান্ডিং দেশের গুরুতর অসুস্থ কর অবকাঠামোতে কোনো বাস্তব পরিবর্তন আনবে না। এমনকি এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে অর্থ উপদেষ্টা নিজেই আশ্বাস দিয়েছেন, তারা এই পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। যদি এটাই সত্যি হয়, তাহলে পুনর্গঠনের এই ঢাকঢোল বাজানো কেবল একটি নিরর্থক উদ্যোগ ছাড়া কিছুই নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের করব্যবস্থার একটি সম্পূর্ণ সংস্কার করা আসলেই প্রয়োজন, যেখানে বিদ্যমান এই ব্যবস্থা যতটা কর রাজস্ব সংগ্রহ করছে, তার চেয়ে অনেক বেশি কর রাজস্ব ফাঁকি দিতে সাহায্য করছে বলে শক্ত অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো মেরামত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘আপনাদের (সরকার) অনুরোধ করব, মানুষের ভাষা বুঝুন। দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। আওয়ামী লীগের যেসব দোসররা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে তাদের চিহ্নিত করুন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা সাম্য হত্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সেখানে চলে মদ, জুয়া, অসামাজিক কাজ, ছিনতাইকারীদের আড্ডা। এগুলো কারও চোখে পড়ে না? আমাদের এক ছাত্রনেতাকে হত্যা করা হয়েছে। একটা তদন্ত কমিটি হবে, তারপর আর কিছু হবে না।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ডা. এ বি সিদ্দিক হাওলাদারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামান, তাঁতীদলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।