শাহবাগ অবরোধ ডিপ্লোমা নার্সিং শিক্ষার্থীদের

তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা নার্সিং কোর্সকে (ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি) ডিগ্রির সমমান দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ অবরোধ করেছিলেন ডিপ্লোমা নার্সিং শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে শাহবাগে অবস্থান নেন ও চারপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। অবরোধকে কেন্দ্র করে শাহবাগমুখী সব সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়।

এর আগে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ডিপ্লোমা নার্সিং শিক্ষার্থীরা। পরে ডিপ্লোমা নার্সিংকে ডিগ্রির সমমান ঘোষণার প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন তারা। আল্টিমেটাম শেষ হলে শাহবাগ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শাহবাগ থানার সামনে ব্যারিকেড বসায় পুলিশ। কিন্তু ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ দখলে নেন শিক্ষার্থীরা। অবস্থান কর্মসূচি থেকে ‘দাবি মোদের একটাই, ডিপ্লোমাদের ডিগ্রি চাই’, ‘চব্বিশের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’সহ নানা  স্লোগান দিতে শোনা যায়।

শিক্ষার্থীরা জানান, নার্সিং কলেজগুলোতে এইচএসসি পাস করে ১১০ ক্রেডিটের তিন বছর ছয় মাস মেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করার পরও ডিগ্রির মান দেওয়া হচ্ছে না। অথচ অন্য শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পাস করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন বছর কোর্স শেষ করেই ডিগ্রি সমমান সনদ পাচ্ছেন। এটি ডিপ্লোমা নার্সিং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করছে।

পরে সন্ধ্যায় নার্সিং শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে বিএসসি নার্সদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও নার্সিং অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তারা। সেখানে ডিপ্লোমা নার্স ও বিএসসি নার্সদের দাবি পূরণে নানা দিক নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বৈঠকে নার্সরা দাবি জানিয়েছেন, নার্সিং শিক্ষা ও পেশায় ‘সিঙ্গেল এন্টি’, অর্থাৎ একমাত্র বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স চালু রাখা। তাহলে সংকট কাটবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান বিএসসি নার্সিং শিক্ষার্থীদের : বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব সায়েন্সেস ইন নার্সিং (বিএসসি) কোর্সের শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সারা দেশে নার্সিং কলেজগুলোতে কমপ্লিট শাটডাউন, বরিশাল ও রাজশাহী নার্সিং কলেজে হামলার প্রতিবাদে অবস্থান ও বিক্ষোভ, বিএসসি শিক্ষক পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি বেসিক নার্সিং শিক্ষার্থীদের ক্লাস প্রত্যাখ্যান অব্যাহত থাকবে।

এসব দাবি নিয়ে গত ৮ মে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। পরে গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নোট জারি করা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সে নোটকে নার্সিং শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে নার্সেস ওয়েলফেয়ার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিব উল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নোট শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা এ নোট মেনে নেইনি। সরকারকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছি। এর মধ্যে নার্সিং কলেজগুলোতে কমপ্লিট শাটডাউন চলবে ও এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এমনকি শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। আমরা ভর্তি প্রতিহত করব।

এই ছাত্রনেতা জানান, তাদের দাবি হলো আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের সংযুক্তি আদেশ বাতিল করে নিজ কর্মস্থলে প্রেরণ, সাত দিনের মধ্যে গ্র্যাজুয়েট নার্সদের প্রভাষক পদে পদায়ন, এক মাসের মধ্যে সেবা পরিদপ্তর নিয়োগ বিধি-২০১৬ সংশোধন করে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ, বরিশাল ও রাজশাহীতে হামলায় জড়িত ডিপ্লোমা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ নার্সিং কলেজগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন।