কোরবানি ও চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে কমিটি

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে আহ্বায়ক করে ১৭ সদস্যের ‘কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত গেজেট জারি করেছে।

কমিটির কার্যপরিধি বিষয়ে গেজেটে বলা হয়েছে, ‘সঠিকভাবে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং পর্যাপ্ত লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া নির্ধারণ; চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা এবং কোরবানির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, চামড়ার বিক্রয়লব্ধ অর্থপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান। কোরবানির হাট, পশু পরিবহন এবং পরিবহনের সময় নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধের বিষয়ে নির্দেশনা জারি এবং চামড়া শিল্প নগরী, সাভারসহ সারা দেশে দ্রুত ও যথাযথভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। কমিটি প্রয়োজনে আরও নতুন সদস্য নিতে পারবে (কো-অপ্ট)। কমিটির সভা প্রয়োজন অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৪ মে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, পশু আনা-নেওয়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ওই বৈঠক শেষে মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা দেখছি মানুষ কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সমাজের হতদরিদ্র মানুষরা, যারা এ চামড়া বিক্রির টাকার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এই অব্যবস্থাপনার অবসান হওয়া প্রয়োজন।’

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বকশ চৌধুরী, চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব, সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয় সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে এনজিও প্রতিনিধি (সরকার কর্তৃক মনোনীত), ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি (সরকার কর্তৃক মনোনীত), বেসরকারি প্রতিনিধি (সরকার কর্তৃক মনোনীত) থাকবেন। এ কমিটিতে ‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন।