খুলনায় তারুণ্যের সমাবেশ আজ

‘সবার আগে প্রতিষ্ঠা করতে হবে বাংলাদেশ নীতি’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস, আওয়ামী লীগের ইতিহাস একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের ইতিহাস। সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিলোপ করে একদলীয় বাকশাল কায়েমের ইতিহাস। এই চোরতন্ত্রের ওয়ারিশি ব্যবস্থা, আওয়ামী লীগের শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা পর্যন্ত, এ ধারা বেয়েই প্রহসনের জাতীয় নির্বাচন দিয়ে কর্তৃত্ববাদী সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে। এ সময় রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের মধ্যে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, সেই কারণে শেখ হাসিনার ওই ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তির জন্য আমাদের শত-সহস্র জীবন দিতে হয়েছে। জনতার রক্তের যে প্রত্যাশা বা আকাক্সক্ষা সেটিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য শক্তিশালী করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এ নীতি আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা প্রেস ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক খুলনা-বরিশাল বিভাগীয় সেমিনারে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল এ সেমিনারের আয়োজন করে। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার নগরীর সার্কিট হাউজ ময়দানে বিভাগীয় সমাবেশ হবে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফাকে রাজনীতির মহাকাব্য উল্লেখ করে বলেন, ‘এ ৩১ দফার মধ্যেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের পথ দেখানো হয়েছে। আমাদের এ ভাবনাকে জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। দলের সব নেতাকর্মী, তরুণ প্রত্যেকেই এই ৩১ দফার অ্যাম্বাসাডর।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থাপনায় ওই সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ডিডব্লিউ একাডেমির প্রভাষক ড. মারুফ মল্লিক, চিন্তক ও সম্পাদক রেজাউল করিম রনি, এ এম জেড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সায়েম মোহাম্মদ, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খন্দকার, শিখোর প্রতিষ্ঠাতা শাহীর চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌফিক জোয়ার্দার প্রমুখ।

অন্যদের মধ্যে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম জিলানী, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরসহ স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

সেমিনারে আলোচকরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, কর্মসংস্থানে নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মাতৃভাষার পাশাপাশি আরও দুই-তিনটি বিদেশি ভাষা শিখতে হবে। ইন্টারনেট ব্যয় হ্রাস, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

আজ সমাবেশ, স্থান পরিবর্তন : জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের দুদিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (শনিবার) বেলা ৩টায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। প্রথমে সমাবেশটি নগরীর শিববাড়ী মোড়ের জিয়া হল চত্বরে হওয়ার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাগরিক দুর্ভোগ ও লোকসমাগমের বিষয়টি মাথায় রেখে সমাবেশ স্থল পরিবর্তন করা হয়।

নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ : তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে আজ শনিবার। সমাবেশ সফল করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে সভা-সেমিনার ও প্রস্তুতি সভা করেছে দলটি। বিতরণ করা হয়েছে লিফলেট; চলছে মাইকিং। প্রস্তুত করা হয়েছে মঞ্চ। পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। এ ছাড়া সমাবেশ শেষে অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মোটকথা সমাবেশকে ঘিরে নগর জুড়ে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে (নেতাকর্মীদের মধ্যে) বইছে উৎসবের আমেজ।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এই সমাবেশে হবে তরুণদের মহামিলন মেলা। সমবেত হবে দেশের নানা শ্রেণি-পেশা, বিশ্বাস, মতাদর্শ ও সামাজিক পটভূমি থেকে উঠে আসা তরুণ-তরুণীরা। যারা স্বপ্ন দেখেন একটি আধুনিক, ন্যায্য ও মানবিক বাংলাদেশের। তাদের সঙ্গে থাকবেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন বলেন, খুলনার ইতিহাসের সর্ববৃহৎ তারুণ্যের সমাবেশ খুলনাবাসী ও বরিশালবাসীর সমন্বয়ে পুরো দেশবাসীকে উপহার দেওযা হবে। সমাবেশে মানুষের ঢল নামবে। তারেক রহমানের নির্দেশনায় তরুণদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা একতাবদ্ধ।

যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, বিএনপি তারুণ্যের ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামীর নেতৃত্বে তরুণরা প্রাধান্য পাবেন। এসব বিষয় সামনে রেখে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি গত ১৭ বছরের লাগাতার আন্দোলন সংগ্রামে লাখ লাখ নেতাকর্মীকে বিনা অপরাধে মাসের পর মাস জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। খুন-গুম, হামলা-মামলা, নির্যাতন-নিপীড়নে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার সর্বকালের বর্বরোচিত ইতিহাস ভঙ্গ করেছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে মাফিয়া শেখ হাসিনা সরকার পালিয়ে গেছে নয় মাসের অধিক। এখনো গণতন্ত্র ফিরে আসেনি। তাই এবার তরুণ প্রজন্মের ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। সে কারণেই খুলনা-বরিশাল বিভাগীয় তারুণের রাজনৈতিক অধিকার সমাবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।