রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যত দ্রুত সম্ভব রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান। এর আগে তিনি বলেছিলেন, তিন আর আমি একসঙ্গে না বসা পর্যন্ত কিছুই হবে না।
গতকাল আবুধাবিতে ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকের পর পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যত দ্রুত আমরা বৈঠক আয়োজন করতে পারি, বৈঠক আয়োজন হয়ে গেলে দ্রুতই আমি এখান থেকে চলে যাব।
গত রবিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ‘কোনো শর্ত ছাড়া’ ইউক্রেনের সঙ্গে এই আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে জেলেনস্কিও বৈঠকের জন্য তুরস্কে যেতে রাজি হন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মধ্যপ্রাচ্য সফরের আগে দিয়ে তুরস্কের এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলের ওই আলোচনা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে। এরপরই ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার কথা বললেন।
বিবিসি বলছে, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে তিন বছরের মধ্যে প্রথম রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সরাসরি শান্তি আলোচনা বৃহস্পতিবার আয়োজন করা হয়েছিল তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। কেবল জেলেনস্কি শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে তুরস্কে যান। কিন্তু পুতিন ও ট্রাম্প কেউ না থাকায় তিনিও আর বৈঠকে যোগ দেননি। তার বদলে বৈঠকে বসেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা।
যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যে কিছুটা হলেও অগ্রগতি হয়েছে, বসফোরাসের তীরে ডলমাবাচে প্রাসাদে এই বৈঠক তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে; কেননা উভয় পক্ষ ২০২২ সালের মার্চের পর আর একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি বসেনি। তবে এ বৈঠকে বড় কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। শুক্রবারের এ আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি পরিকল্পনা পরিচালক মাইকেল অ্যান্টন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
রুশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ভøাদিমির মেদিনস্কি। তার সঙ্গে থাকছেন রাশিয়ার একজন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান। ওদিকে, জেলেনস্কির ঘোষণা অনুযায়ী, ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার সঙ্গে থাকছেন ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান, সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফের উপপ্রধান ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।