জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক লীগ নেতা

কক্সবাজারের পেকুয়ায় জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে শ্রমিক লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ার ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আবদুল ওদুদ। তিনি পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের দক্ষিণ হিরাবনিয়া পাড়া গ্রামের মৃত বাচা মিয়ার ছেলে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ  মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন এবং দুদকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত আবদুল ওদুদ ২০২০ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন। এ ছাড়া তিনি শ্রমিক লীগের কক্সবাজার জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিগত ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পান। এরপর তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রতি মাসে ভাতাও পাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এক ছেলে রেলওয়েতে খালাসি পদে চাকরিও পেয়েছেন।

জানা যায়, গত ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রে আবদুল ওদুদের বয়স উল্লেখ আছে ২০/০৮/১৯৫৮। জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে তিনি জনতা ব্যাংকে চাকরি করে অবসরও গ্রহণ করেন। তবে বর্তমান ভোটার তালিকা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে আবদুল ওদুদের বয়স উল্লেখ রয়েছে ২০/০৮/১৯৫৭। তার জন্ম তারিখ ১৯৫৮ হলে ১৯৭১ সালে বয়স ১৩ বছরের কম হওয়ায় এসএসসির ভুয়া সনদ তৈরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে ২০১৬ সালে বয়স সংশোধন করে ১৯৫৭ করেন। এরপর সংশোধিত জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়েই তিনি বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেভুক্ত হন।

পেকুয়া উপজেলা কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, আবদুল ওদুদ নামের ওই ব্যক্তি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নেননি। তিনি কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হলেন তারা জানেন না।

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে বয়স সংশোধনের আবেদনে বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে ১৯৭৪ সনের এসএসসি পাসের সনদপত্র দাখিল করলেও বিদ্যালয়ের রেজিস্টারে ১৯৭৪ সালে আবদুল ওদুদের এসএসসি পাসের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, আমি ২০১৬ সালে এখানে কর্মরত ছিলাম না। আবদুল ওদুদ নামের ওই ব্যক্তি এসএসসির সনদ জালিয়াতি করে কিভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ সংশোধন করেছেন বিষয়টি আমার জানা নেই।

এসএসসির সনদ জালিয়াতি করে জাতীয় পরিচয় পত্রের বয়স সংশোধনের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত আবদুল ওদুদ বলেন, তিনি কোনও প্রকার জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নেননি। তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট না করার জন্য প্রতিবেদককে অনুরোধ জানিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট ইমরান সাইফুল অভিযোগ করেন, আবদুল ওদুদ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শ্রমিক লীগের পদবিধারী নেতা হিসেবে প্রভাব বিস্তার ও অর্থের বিনিময়ে বয়স সংশোধন করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এটা প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য মানহানির শামিল।

তিনি আরও জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স সংশোধন করে মুক্তিযোদ্ধা বনে যাওয়া আবদুল ওদুদের সনদ ব্যবহার করে ছেলে আশহাদুল ইসলাম মনিরকে রেলওয়েতে খালাসি পদে এবং মেয়ে এনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরিও হাতিয়ে নিয়েছেন।