ভারত থেকে পুশইনের আশঙ্কায় কুমিল্লা সীমান্ত জুড়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জেলার বিবিরবাজার ও গাজীপুর সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারিতে যুক্ত করা হয়েছে আনসার ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদেরও।
গতকাল রবিবার কুমিল্লা সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিজিবি সদস্যরা আগের তুলনায় বেশি সক্রিয়। টহলও বেড়েছে দ্বিগুণ।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে কুমিল্লা ১০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রায় ৯৬ দশমিক ১০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেনি। তবে দেশের অন্য কয়েকটি সীমান্তে রোহিঙ্গা ও বিদেশি নাগরিকদের পুশইনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। গোলাবাড়ি সীমান্তের গোমতী নদীতেও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত সভা করছেন স্থানীয়দের সঙ্গে, চালাচ্ছেন সচেতনতামূলক প্রচারণা। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রয়েছে স্থানীয় আনসার-ভিডিপি ও সাধারণ মানুষও।
সীমান্ত এলাকার শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিলে আমাদের কৃষিজমির সমস্যা হয়। উত্তেজনা থাকলেও বিজিবির তৎপরতায় আমরা কিছুটা স্বস্তিতে আছি।
এ বিষয়ে পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ রাহুল বলেন, সীমান্তে যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয়রাও সজাগ। বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা কাজ করছি।
বিবিরবাজার সীমান্ত পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মো. রাসেল জানান, এ এলাকায় এখনো পর্যন্ত কোনো অবৈধ ভারতীয় নাগরিক বা রোহিঙ্গা প্রবেশ করেনি। তবে প্রতিনিয়ত নজরদারি চলছে।
কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, কুমিল্লা সীমান্তে এখনো পুশইনের চেষ্টা হয়নি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত। বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, মসজিদে মসজিদে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কোনো ধরনের উত্তেজনা যেন না ছড়ায়, সেদিকেও আমরা সচেতন।
বিজিবির দাবি, সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও স্থানীয়দের সহায়তায় কুমিল্লা এখনো পুশইনমুক্ত রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।