জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ৪টি লিফ্ট দিয়ে ওঠা-নামা করে প্রায় ১২শ শিক্ষার্থী। তবে সেই লিফটে রয়েছে নানা সমস্যা। ফলে সময়মতো শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া বিভিন্ন সময় লিফটের ভিতরে আটকে গিয়ে ছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ও ঘটে। এ পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা করেছেন অনেকে। তাই দ্রুত লিফটির মেরামতের দাবি শিক্ষার্থীদের।
সোমবার (১৯ মে) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিফা আনজুম লিফটে আটকা পড়ে জ্ঞান হারান। বর্তমানে সে ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মাত্র ছাত্রী হলের ষোলতলা ভবনে ওঠা-নামার জন্য চারটি লিফট রয়েছে। এই লিফটে ৩৬ বিভাগের প্রায় ১২শ’ শিক্ষার্থীর ওঠা-নামা করেন। ফলে প্রতিটি লিফটের সামনে দিনের অধিকাংশ সময় শিক্ষার্থীদের লম্বা লাইন থাকে। লিফটে ১ হাজার ২৫০ কেজি ধারণ ক্ষমতার কথা উল্লেখ থাকলেও মাত্র ৬-৭ জন নেওয়ার পরে আর লোড নেয় না।
আবার দ্রুত ক্লাসে পৌঁছানোর জন্য চাপাচাপি করে অনেক শিক্ষার্থী লিফটে উঠলে দেখা দেয় যান্ত্রিক গোলযোগ। ফলে সেখানে আটকা পড়ে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘক্ষণ আটকা থাকার পর বের হতে পারেন না তারা। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয় আতঙ্ক। অপরদিকে শারিরীকভাবে দুর্বল বা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য লিফট ব্যবহার আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, লিফটে কোনো যান্ত্রিক সমস্যা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষকে সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। এমন ত্রুটিপূর্ণ লিফট দিয়ে উঠা-নামা করারটা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ যেকোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হলে অবস্থানকারী দুর্ভোগের স্বীকার গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিফা আনজুম একটা পোস্ট করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, জগন্নাথে পড়াকালীন আমার যদি অকাল মৃত্যু হয় মনে হয় দায়ী থাকবে লিফটগুলা। গতবছর গরমে ক্যাম্পাসে যখন অনলাইন ক্লাস শুরু হয় একা আধাঘন্টা প্রচন্ড গরমে লাইট, ফ্যান ছাড়া আটকানো ছিলাম। অনেকবার এমার্জেন্সি ট্রাই করার পর খোলার পর বের হয়েই সেন্সলেস হয়ে গেছিলাম। এমনিতেই শ্বাসকষ্টের প্রব্লেম আছে।
তিনি আরও লিখেন, লিফটে আটকে ছিলাম আমিসহ প্রায় ৫-৭ জন আপু। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে অল্প উঠেই লিফট কয়েকবার ঝাকি লেগে বন্ধ হয়ে গেলো তারপর নিচের দিকে সিগন্যাল দিচ্ছিলো (হলে আন্ডারগ্রাউন্ড আছে?) জানতাম না। লিফট লক ভেতরে দরজা ফাকা হয়ে মেশিনপত্র দেখা যাচ্ছিলো। আমরা কন্টিনিউয়াসলি এমার্জেন্সি ক্লিক করছিলাম বাইরে থেকে রেসপন্স নাই। আমরা বুঝতে পারছিলাম না আছি কোন ফ্লোরে। হঠাৎ বাইরে এক আপু টের পেয়ে মামাদের ডাকে। মামা আসার অনেক্ষণ পর দরজা খুললো। খোলার পর দেখি লিফট গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে কিছুটা উপরে উঠে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা সুলতানা বলেন, প্রতিনিয়ত লিফট নিয়ে সমস্যা। এমনও ঘটনা ঘটে সব গুলা লিফ্ট বন্ধ করে রাখে। সারাদিন ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় উপরে। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ই লিফট আটকে থাকে, ভিতরে অনেক সময় আটকে থাকি। কিন্তু যদি এতে কিছু হয়ে যায় কারো যদি অঘটন ঘটে যায় এই দায় নিবে কে! দ্রুত লিফট গুলো মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম খান ঈশা বলেন, সেদিন আমি এবং আমার সাথে আরো ৭/৮ জন এই লিফট এর ঝাঁকুনি খেয়েছি। এতো পরিমাণ ভয় পেয়েছি ঝাঁকুনি খেয়ে। নামবো ৭ তলায় কিন্তু লিফট রেসপন্স করেনি ১২ তলাতে নিয়ে গেছে। তারপর ঝাঁকুনি তিনবার। ঝাঁকুনি এতোই জোরে ছিলো যেটা লিখে বোঝানো সম্ভব না।
এই বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আমার কাছে কলও এসেছিলো একটা মেয়ে আধাঘন্টার মতো আটকে ছিল। খবর পয়ে অফিস সহকারী সাথে সাথে মেয়েটিকে উদ্ধার করে।
লিফট আটকিয়ে যাওয়ার দুইটি কারণ প্রথমত কারেন্ট চলে গেলে হুটহাট লিফট অফ হয়ে যায়। আর দ্বিতীয়ত অভিযোগ এসেছে মেয়েরা লিফট এর পাশে রান্নার সময় পানি ফেলে তা লিফটে চলে যায়। এর জন্য সমস্যা হচ্ছে।