পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছতে না পারলে ফিলিস্তিনের গাজায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ১৪ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার। গতকাল মঙ্গলবার বিবিসির নিউজ টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি। ফ্লেচার বলেন, আমরা যতটা পারি এই ১৪ হাজার শিশুকে রক্ষা করতে চাই।
ইসরায়েলের অবরোধের কারণে প্রায় তিন মাস গাজায় কোনো ত্রাণ প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে খাদ্যসংকট চরমে পৌঁছেছে। গত রবিবার ইসরায়েলে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর মঙ্গলবার গাজায় প্রবেশ করেছে ত্রাণসামগ্রী বহনকারী নয়টি ট্রাক। মঙ্গলবার কেরেম শালোম সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ করে শিশুখাদ্যসহ জরুরি সাহায্য বহনকারী এ ট্রাকগুলো। টম ফ্লেচার ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও এটি যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এটিকে ‘সাগরে এক বিন্দু পানি’ অভিহিত করে ফ্লেচার বলেন, আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ত্রাণ গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। আমাদের গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তার বন্যা বইয়ে দেওয়া দরকার। সেই সঙ্গে গাজার জন্য আরও সহায়তা সংগ্রহ জাতিসংঘের ‘সত্যিকার পরীক্ষা’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানান জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কর্মীদের একাধিক রুটে গাজায় প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিশুখাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা নিয়ে এ ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো ইসরায়েলি সীমান্ত পার হয়ে শুধু গাজাতেই প্রবেশ করেছে। দক্ষিণ গাজার এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য একটা রুটির টুকরো পর্যন্ত পাচ্ছি না। দক্ষিণাঞ্চল থেকে কীভাবে আমরা সাহায্য পাব? সেখানে যাওয়া আমাদের জন্য কঠিন। আমরা একটি ট্র্যাজেডির মধ্যে বাস করছি। তার আশঙ্কা, যে অল্প পরিমাণ ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে সেটি তাদের কাছে নাও পৌঁছাতে পারে। আরেক ব্যক্তি বলেন, ক্ষুধায় এবং খাদ্যের অভাবে লোকজন অজ্ঞান হয়ে পড়তে শুরু করেছ। আমরা জানি না বাচ্চাদের কী খাওয়াব। ডাল, চাল, ময়দা কিংবা অন্য কোনো ধরনের খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ একটা টমেটো পর্যন্ত কিনতে পারছে না। কেউ এক ব্যাগ ময়দা পাচ্ছে না। আবু সালেম নামে আরেক ব্যক্তি বলেন তেল, চিনি ও গ্যাসের জন্য মানুষ পাগল হয়ে গেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এ যুদ্ধ তখনই শেষ হবে যখন হামাস সব জিম্মিকে ছেড়ে দেবে ও অস্ত্র সমর্পণ করবে। এখনো হামাসের হাতে ৫৮ জন জিম্মি আছে এবং তাদের মধ্যে ২৩ জন জীবিত আছে বলে মনে করা হচ্ছে।