বৈশ্বিক মহামারী চুক্তিতে সম্মত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্বব্যাপী মহামারী মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে বৈশ্বিক একটি চুক্তির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য দেশগুলো। গত সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে সেøাভাকিয়া ভোটের আহ্বান জানানোর পর ১২৪টি দেশ চুক্তির পক্ষে জোরালো সমর্থন জানায়। এটিকে সম্ভাব্য ‘যুগান্তকারী বৈশ্বিক চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কভিড-১৯ টিকা নিয়ে সন্দেহবাদী সেøাভাকিয়া প্রধানমন্ত্রী চুক্তিটি গ্রহণ করার পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভোটের দাবি করেন। কোনো দেশ চুক্তির বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি। কিন্তু রাশিয়া, ইতালি, পোল্যান্ড, ইরান, ইসরায়েল ও সেøাভাকিয়াসহ ১১টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

ভোটের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেন, সারা বিশ্বের সরকারগুলো তাদের দেশ ও আমাদের পরস্পর সংযুক্ত বৈশ্বিক সমাজগুলোকে রোগজীবাণু ও মহামারী সৃষ্টিতে সক্ষম ভাইরাসের হুমকি থেকে আরও সমতাপূর্ণ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ করে গড়ে তুলছে। কভিড-১৯ মহামারী থেকে হওয়া অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এই খসড়া চুক্তিটি গতকাল মঙ্গলবার জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এই চুক্তিটিতে ওষুধ বা টিকা এবং স্বাস্থ্য সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে কাঠামোগত বৈষম্যকে তুলে ধরে এর সমাধানের কথা বলা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত চলা কভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্ব জুড়ে ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সংক্রামক জীবাণুর তথ্য ভাগাভাগি করা নিয়ে একটি সংযুক্তির বন্দোবস্ত না করা পর্যন্ত এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে না। এটি করতে দুই বছরের মতো সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর রাষ্ট্রগুলোকে এই চুক্তিটি অনুমোদন করতে হবে।

অনেক কূটনীতিক এবং বিশ্লেষক এই চুক্তিটিকে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতার একটি ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছেন। এটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক তহবিলে কাটছাঁটের কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতো বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।