দুদকের মামলা

সাজার বিরুদ্ধে জোবাইদার আপিলের শুনানি আজ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তিন বছরের সাজার বিরুদ্ধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের করা আপিলের ওপর আজ শুনানি শুরু হবে। গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করে।

গত ১৩ মে হাইকোর্টে আপিল করতে ৫৮৭ দিন (বিচারিক আদালতের রায়ের সময় থেকে) বিলম্ব মার্জনা এবং আপিলের অনুমতি পেয়েছিলেন জোবাইদা রহমান। পরদিন তার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন এবং অধস্তন আদালতে তাকে দেওয়া অর্থদণ্ড স্থগিতের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল হাইকোর্টের এই বেঞ্চে জোবাইদার মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকার শুরুর দিকে ছিল। তার আইনজীবীরা শুনানির জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করেন। আদালত বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করে।

গতকাল জোবাইদার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কায়সার কামাল ও মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া। জাকির হোসেন ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য করেছেন। মামলাটি কার্যতালিকার শুরুর দিকে থাকবে। আমরা শুনানির জন্য প্রস্তুত।’

ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলাটি করে দুদক। দীর্ঘদিন মামলাটি উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত থাকার পর ২০২২ সালে মামলাটি সচলের উদ্যোগ নেয় তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার। শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত এক রায়ে তারেক রহমানকে ৯ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেয়। আর  জোবাইদাকে তিন বছর কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

বিএনপির কোনো পর্যায়ের রাজনীতিতে না থাকা জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে তখন প্রথম কোনো ফৌজদারি মামলার রায়ে সাজা হয়। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ২২ সেপ্টেম্বর জোবাইদা রহমানের সাজা স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকারের  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। ওয়ান ইলেভেনের পটভূমিতে স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান জোবাইদা রহমান। ১৭ বছর তিনি সেখানেই ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত ৬ মে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি।