ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডের বাইরেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য শহরাঞ্চলে ভর্তুকি মূল্যে ট্রাকে করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে যে তিন ধরনের পণ্য বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সবগুলোরই দাম বাড়িয়েছে টিসিবি।
গতকাল বুধবার টিসিবির যুগ্ম পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবির স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। টিসিবি বলছে, তারা প্রতি লিটার ভোজ্য তেল বিক্রি করবে ১৩৫ টাকা দরে, যা গত ফেব্রুয়ারি মাসেও বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা লিটার হিসেবে। অর্থাৎ এখানে টিসিবি লিটারে ৩৫ টাকা দাম বাড়িয়েছে।
প্রতি কেজি চিনি বিক্রি করা হবে ৮৫ টাকা কেজি দরে, যা আগে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছে টিসিবি। আগে যে মসুর ডাল বিক্রি করেছে টিসিবি ৬০ টাকায়, সেটা ২০ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করেছে।
অথচ সর্বশেষ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করে। তবে খোলাবাজারে চিনি ও মসুর ডালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও টিসিবি এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সরকার ভর্তুকির টাকা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই পণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে।
টিসিবি বলছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে। স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের পাশাপাশি যেকোনো সাধারণ ভোক্তা ঈদের পণ্য কিনতে পারবে বিশেষ ট্রাক সেল থেকে। সারা দেশে প্রতিদিন ৬৯০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ওইসব পণ্য বিক্রি হবে। ভোজ্য তেল, চিনি ও মসুর ডাল থাকবে প্রতিটি ট্রাকে। একেকজন ক্রেতা দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি কিনতে পারবেন।
টিসিবি বলছে, ঢাকায় ৫০টি, চট্টগ্রামে ২০টি, ৬টি বিভাগীয় শহরে ১০টি করে অবশিষ্ট ৫৬ জেলা শহরে ১০টি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হবে। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে বিক্রয় কার্যক্রম ২২ মে থেকে শুরু হয়ে ৩ জুন পর্যন্ত (শুক্রবার ও ছুটির দিনসহ) চলমান থাকবে।