জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তিন বছর সাজার বিরুদ্ধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের করা আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পর শুনানি শুরু হয়ে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত চলে। আদালত আগামী সোমবার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে।
জোবাইদার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান, আইনজীবী কায়সার কামাল ও জাকির হোসেন ভূঁইয়া। অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও রায় থেকে পড়ে শুনিয়েছি। আদালতে বলেছি, একজন সাক্ষীর বক্তব্যের সঙ্গে আরেকজন সাক্ষীর বক্তব্যের মিল নেই। আর একজন সাক্ষীও বলেনি যে, এখানে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং তারেক রহমানকে চাপে রাখার জন্য এ মামলা ও রায় হয়েছে। আজ (গতকাল) শুনানি নিয়ে সোমবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।’
ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলাটি করে দুদক। দীর্ঘদিন মামলাটি উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত থাকার পর ২০২২ সালে মামলাটি সচলের উদ্যোগ নেয় তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার। শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত এক রায়ে তারেক রহমানকে ৯ বছর কারাদ-াদেশ দেয়। আর জোবাইদাকে তিন বছর কারাদ- ও ৩৫ লাখ টাকা অর্থদ-ের আদেশ দেয় আদালত।
বিএনপির কোনো পর্যায়ের রাজনীতিতে না থাকা জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে তখন প্রথম কোনো ফৌজদারি মামলার রায়ে সাজা হয়। গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছর ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর জোবাইদা রহমানের সাজা স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। ওয়ান ইলেভেনের পটভূমিতে স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান জোবাইদা রহমান। ১৭ বছর তিনি সেখানেই ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত ৬ মে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি। ১৩ মে হাইকোর্টে আপিল করতে ৫৮৭ দিন (বিচারিক আদালতের রায়ের সময় থেকে) বিলম্ব মার্জনা এবং আপিলের অনুমতি পেয়েছিলেন ডা. জোবাইদা। পরদিন তার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন এবং অধস্তন আদালতে তাকে দেওয়া অর্থদ- স্থগিতের আদেশ দেয় হাইকোর্ট।