হলফনামায় অসত্য তথ্য

হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসিকে দুদকের চিঠি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে নির্বাচনকালে হলফনামায় দাখিল করা সম্পদ বিবরণী ও তার আয়কর বিবরণীতে সম্পদের হিসাবে গরমিল পাওয়ায় বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’-এর আওতায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে সংস্থাটি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এ তথ্য জানান।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানে দুটি বিষয়। একটি অংশ নির্বাচন কমিশনের কাছে চলে গেছে, নির্বাচন কমিশনব্যবস্থা নেবে। আরেকটা অংশ হচ্ছে, হলফনামায় দাখিল করা সম্পদ বিবরণী ও তার আয়কর বিবরণী সম্পদের হিসাব করে আমাদের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুদক পৃথকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। সেটা খানিকটা সময়সাপেক্ষ বিষয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের শিডিউলে রাজনৈতিক ইস্যু একেবারেই নেই। নির্বাচন কমিশনে এক রকম হলফনামা দেবে আর দুদকে এক রকম সম্পদের হিসাব দেবে। এটার মধ্যে রাজনৈতিক বিষয় নেই। ছয় মাস ধরে দুদকে দায়িত্ব পালন করছি, এ সময় রাজনৈতিক চাপ পাইনি।’

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল মোমেন বলেন, ২০০৭ সালে দুদকের অনুসন্ধানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। ওই সময়ের সম্পদ বিবরণী এবং ২০০৮ সালের ১৯ নভেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে হলফনামার মাধ্যমে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তার নিজ নামে অর্জিত কৃষিজমির পরিমাণ ৬ দশমিক ৫০ একর উল্লেখ করেছেন। যার আর্থিক মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু সমসাময়িক সময়ে দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে শেখ হাসিনার নামে অর্জিত ২৮ দশমিক ৪১১ একর জমির তথ্য পাওয়া যায়। যার ক্রয় করা মূল্য ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০ টাকা। সে অনুযায়ী তিনি হলফনামায় ২১ দশমিক ৯১ একর জমির তথ্য গোপন করেছেন এবং ক্রয় করা জমির মূল্য ৩১ লাখ ৯১ হাজার ১০ টাকা কম দেখিয়ে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন।

আবদুল মোমেন আরও বলেন, শেখ হাসিনা মাগুরা-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য (এমপি) প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল আকবরের নামে শুল্কমুক্ত কোটা ব্যবহার করে বেনামে ২ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যে (গাড়ি আমদানির এলসির বিপরীতে ব্যাংক থেকে পরিশোধিত ১ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা) একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি আমদানি করে নিজ বাড়ির ঠিকানায়। গাড়িটি তিনি নিজে ব্যবহার করেছেন। সিরাজুল আকবরের আয়কর নথিতে কিংবা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামায় আলোচ্য গাড়িটির বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করেননি এবং তিনি কখনো গাড়িটি ব্যবহারও করেননি বলে জানিয়েছেন।

দুুদক চেয়ারম্যান বলেন, সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিশন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’-এর আওতায় হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়ে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৮ মে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মাসুদুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত টিম অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে থেকেই শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পূর্বাচলে প্লট জালিয়াতি, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ লোপাট ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান। এর মধ্যে পূর্বাচলে প্লট জালিয়াতির মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।