গত শুক্রবার (২৩ মে) আরব-ইসলামি মন্ত্রিপরিষদ কমিটির এক প্রতিনিধিদল প্যারিসে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ বন্ধ এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২৩ সালের ১১ নভেম্বরে গঠিত আরব-ইসলামি মন্ত্রিপরিষদ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া ও ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এবং আরব লিগ ও ওআইসির মহাসচিবরা। এই কমিটির মূল লক্ষ্য হলো গাজা যুদ্ধের অবসান, মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগানো।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কমিটির প্রতিনিধিদলে ছিলেন জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেল আত্তি।
বিবৃতিতে বলা হয়, তারা বারোর সঙ্গে বৈঠকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয়, এই অঞ্চলে শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে একটি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান (ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠন) বাস্তবায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে।
বৈঠকে আগামী ১৭ থেকে ২০ জুন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সম্মেলনের যৌথ সভাপতিত্ব করবে সৌদি আরব ও ফ্রান্স।
গত ১৬ মে আরব লিগের সহকারী মহাসচিব হুসাম জাকি বলেন, এই সম্মেলন হবে ‘গভীর ও বিস্তৃত’, যেখানে ফিলিস্তিনি ইস্যুর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলো সব দিক থেকে আলোচিত হবে।
এর আগে এপ্রিল মাসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, তার দেশ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ঘোষণা আসন্ন জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনেই দেওয়া হতে পারে।
ইসরায়েল এখনো গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। অক্টোবর ২০২৩ সাল থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্বর আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৮০০’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এ ছাড়া গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত।