জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মোহাম্মদ হাসানের মরদেহ গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে দেশে আনা হয়। পরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে প্রথম জানাজা হয়।
আন্দোলনে আহত হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড পাঠিয়েছিল সরকার। সেখানেই পায়াথাই পাহোলিওথিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ২৫ বছর।
হাসানের মরদেহ গতকাল সন্ধ্যায় থাইল্যান্ড থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম তার মরদেহ গ্রহণ করেন এবং তার মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মশিউর রহমান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শহীদ হাসানের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধা শহীদ হাসানের মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরে দাফন করা হবে। তার মরদেহ দাফনের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসন নোয়াখালী সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। গতকাল রাতেই ঢাকা থেকে তার মরদেহ নোয়াখালী নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি কোরআনের হাফেজ ছিলেন। হিফজ শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত সহকারী ডা. মাহমুদুল হাসান এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাসে আন্দোলনের সময় মাথার ডান পাশে গুলিবিদ্ধ হন হাসান। প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। পরে গত অক্টোবরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই দীর্ঘদিন লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১০ এপ্রিল তাকে লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে সাধারণ শয্যায় নেওয়া হয়। ২৫ এপ্রিল তার অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ তিনি থাইল্যান্ডের পায়াথাই পাহোলিওথিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।