সেমিনারে মেয়র শাহাদাত

জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ এ বছর অর্ধেকে নেমে আসবে

চলতি বছর চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ অর্ধেকে নেমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এ বছর যেভাবে কাজ হয়েছে তাতে এবার জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে আসবে।’ গতকাল শনিবার বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতি আয়োজিত ‘চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সম্মেলন কক্ষে পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অভীক ওসমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দেশ রূপান্তর চট্টগ্রাম অফিসের ব্যুরো প্রধান ভূঁইয়া নজরুল। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সমাজের যেমন ভূমিকা রয়েছে তেমনিভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। সরকারের পক্ষ ২০১৭ সালে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হলেও এখনো জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে আমরা রেহাই পাইনি কেন? একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হলেও এই দুর্ভোগের পরিত্রাণ নেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য যন্ত্রপাতি কিনতে সরকারের কাছে ৩৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো সেই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। যন্ত্রপাতি ছাড়া আমি নালা খাল পরিষ্কার করব কি করে? তিনি আরও বলেন, আমরা সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর সব সংস্থা নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এর ফলও আমরা পাব। এবার হয়তো গত বছরের তুলনায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ দুর্ভোগ কমে আসবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, প্রকৃতিকে প্রকৃতির মতোই নিয়ন্ত্রণ করতে দেওয়া উচিত। যখনই এখানে বাধা দেওয়া হবে তখন তা হিতে বিপরীত হবে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫৫ শতাংশ দায়িত্ব নাগরিকের এবং ৪৫ শতাংশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার।

স্থপতি জেরিনা হোসেন বলেন, এই নগরে প্রত্যেকটি প্লটের পানি ধারণ ক্ষমতা থাকতে হবে। এ জন্য প্রতিটি প্লটের মধ্যে কার্পেটিং ছাড়া খালি জায়গা রাখা প্রয়োজন। যাতে বৃষ্টির পানি মাটির ভেতরে রিচার্জ হয়। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানি যেমন পুনঃভরণ হবে তেমনিভাবে পানিও রাস্তা ও নালা দিয়ে কম প্রবাহিত হবে।

 সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস এম নসরুল কদির, আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের  চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম, সিডিএ বোর্ড  মেম্বার স্থপতি ফারুক আহমেদ, স্থপতি আশিক ইমরান, জনসংযোগ সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি এ. এস. এম. বজলুল হক,  পেশাজীবী নেতা ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব ও সিডিএ বোর্ড  মেম্বার জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাসস-এর ব্যুরো চিফ মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ড. শহীদুল হক এবং অধ্যক্ষ সুরাইয়া বেগম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ সাকী।