সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির যুক্তরাজ্যে মালিকানাধীন সম্পদ জব্দের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক চাপের প্রভাব বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তার মতে, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার ও তা ফেরত আনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ তৈরি হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ঋণ সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং। গভর্নর বলেন, যুক্তরাজ্যে সম্পদ জব্দের ঘটনায় আমরা খুবই উৎসাহ বোধ করছি। এটাকে সামনের দিকে আরও বেগবান করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির পাচার হওয়া সম্পদ যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। আশা করছি, সেগুলোকেও চিহ্নিত করে জব্দ করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান এফ রহমান ও সালমান এফ রহমানের ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের যুক্তরাজ্যে মালিকানাধীন ৯০ মিলিয়ন বা প্রায় ৯ কোটি পাউন্ডের সম্পত্তি জব্দ করেছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)। এই দুজন ব্যক্তি দেশটিতে জব্দ হওয়া সম্পদ বিক্রি করতে পারবেন না। সম্প্রতি ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই দুজনের সম্পদের বিষয় উঠে আসে। বাংলা টাকায় তাদের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রতি পাউন্ড ১৪৬ টাকা হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠান শেষে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর বলেন, ‘সম্প্রতি আমি লন্ডন সফর করেছিলাম। সেখানে অর্থ পাচার নিয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। আমাদের প্রধান উপদেষ্টাও বলেন, চুরি করা অর্থ ফেরত নিয়ে আসব। এটা আমাদের কমিটমেন্ট। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) সব জায়গায় সেই প্রচেষ্টাও চালাচ্ছেন। এটারই অংশ হিসেবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অর্থ পাচার নিয়ে একটা চাপের মধ্যে রয়েছে।’
জব্দ হওয়া সম্পদ কত দিনের মধ্যে দেশে ফেরত আসতে পারে, সে বিষয়ে গভর্নর মনসুর বলেন, জব্দ হওয়া মানেই দেশে ফেরত আনা না। ফেরতের বিষয় বিচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে জব্দের কারণে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পদ বিক্রি করা যাবে না। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। আমরা এখন আইনি প্রক্রিয়াটা শুরু করব।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এটা স্মরণ করে দিতে হবে যে পাচার হওয়া সম্পদ তাদের কাছে রাখাটা নৈতিকতাবিরোধী, এটা রাখা ঠিক নয়। এটা যার সম্পদ, যে জনগণের টাকা, তাদের ফেরত দিয়ে দেওয়া উচিত। সেই ব্যাপারে তারা যেন তাদের তৎপরতা দেখায়, এটাই আমাদের আশা।
নতুন টাকায় থাকবে না কোনো ব্যক্তির ছবি
আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বাজারে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট ছাড়া হবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তবে টাকায় কোনো ব্যক্তির ছবি থাকবে না। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ছবি থাকবে। টাকা ছাপানো শুরু হয়ে গেছে।
টাকায় মন্দির, গির্জা স্থান পেয়েছে এমন তথ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেসব স্থাপনা সেগুলো থাকবে। সেটা মসজিদই হোক কিংবা মন্দিরই হোক, সেখানে আমরা কোনো পার্থক্য করছি না।