রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, রামপালসহ রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধ করার রাস্তা খোঁজা উচিত। তাতে কিছু আর্থিক ক্ষতি হবে। অব্যাহত রাখলে ক্ষতি হবে আরও বেশি।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘বিগত শাসনামলে জ্বালানি খাতে লুণ্ঠনের দায়’ নিয়ে ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির অভিযোগ এনে এসব খাতে লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হয়েছে। এ খাতে যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত, তারা অনেকেই এখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া জরুরি।’
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতের দায়মুক্তি আইন বাতিল করা হলেও, ওই আইনের অধীনে নেওয়া বিগত সরকারের সব প্রকল্পকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। রামপাল, মাতারবাড়ী ও রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের অর্থনীতিতে বোঝা তৈরি করেছে। এই বোঝা কমাতে অন্তর্র্বর্তী সরকারের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই চুক্তিগুলোর বৈধতা পুনর্বিবেচনা করে বাতিলের পথ খুঁজতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত শাসনামলের পতিত প্রধানমন্ত্রীর একক পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে হরিলুটের ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল। লুটেরাদের সুযোগ করে দিতে ২০১০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিতর্কিত ইনডেমনিটি আইন পাস করে এবং এর মেয়াদ দফায় দফায় বাড়িয়ে দুর্নীতির ক্ষেত্রকে করা হয়েছে অবারিত। বিদ্যুৎ বিতরণ, সঞ্চালন ও মিটার কেনাকাটায় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেখানেও রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ১০ দফা সুপারিশ করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সম্পাদিত সব চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক এবং কোনো চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী হলে, তা বাতিল হোক। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২০১০ সালের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জ্বালানি খাতের মাফিয়াদের বিচার করতে হবে। জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ গণশুনানি নিশ্চিত করে নিরবচ্ছিন্ন মানসম্পন্ন জ্বালানি সরবরাহ করতে হবে।
ছায়া সংসদে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক রিশান নসরুল্লাহ ও সাংবাদিক মো. মহিউদ্দিন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।