যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। ২০০৪ সালে দুদেশের মধ্যে এ নিয়ে তুলনাযোগ্য রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর, যা সর্বোচ্চ।
ব্রিটিশ হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে ৬ হাজার ৬১৮ জন আমেরিকান যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করেছেন। যাদের মধ্যে ১ হাজার ৯০০ জনই আবেদন করেছেন চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে। এই তিন মাসে জমা পড়া আবেদনের সিংহভাগই এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের পর।
এই পরিসংখ্যান এমন একসময় এলো, যখন ব্রিটেন সরকার অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সীমান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন। হোম অফিস প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, এরই মধ্যে অভিবাসন কমে প্রায় অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার। অথচ এক বছর আগেই এ সংখ্যা ছিল প্রায় দ্বিগুণ। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, তাদের কাছে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন বা পরামর্শ নিচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন, এই আগ্রহ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশটির রাজনীতি খুব বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাজ্যের মতো অন্য দেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। লন্ডনের উইলসন্স সলিসিটরসের ইমিগ্রেশনবিষয়ক আইনজীবী মুহাথান পরমেশ্বরন নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা এবং নতুন সরকারের বিভিন্ন ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন-সংক্রান্ত অনুসন্ধান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই হার বাড়ার ক্ষেত্রে একমাত্র কারণ নয় বলেও উল্লেখ করেছেন এই আইনজীবী।