জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তা জানানোর পাশাপাশি যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়নি, তাও স্বচ্ছতার স্বার্থে প্রকাশ করা হবে। কারণ আমাদের লক্ষ্য জাতীয় সনদ প্রতিষ্ঠা করা।
গতকাল রবিবার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
আলী রীয়াজ বলেন, ঐকমত্য গঠনে শুধু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকই যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সঙ্গেও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ ব্যতীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির সুযোগ নেই।
এ সময় বক্তারা মানবাধিকার, নারী অধিকার, ভিন্ন ভিন্ন নৃগোষ্ঠীা এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকারসহ মৌলিক বিষয়গুলোতে একমত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করার তাগিদ দেন আলোচকরা। জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থানের পর তরুণ প্রজন্মের নারীরা প্রবল আগ্রহ ও আকাক্সক্ষা নিয়ে রাজনীতিতে আসতে চাইছেন বলে দাবি করেন তারা। ঐকমত্যের বিষয়টি জাতীয় সনদের মাধ্যমে প্রতিফলনের আশাবাদ প্রকাশ করেন বক্তারা। যাতে ভবিষ্যতে প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল সেই জাতীয় সনদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নের পথে ভূমিকা পালন করতে পারে।
এতে সুশীল সমাজের হয়ে বিচারপতি আব্দুল মতিন, মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মনীরুজ্জামান, ড. ওয়ারেসুল করিম, ড. মির্জা হাসান, ড. গীতি আরা নাসরিন, ড. সামিনা লুৎফা, সুলতানা রাজিয়া, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, ইলিরা দেওয়ান, আশরাফুন নাহার মিষ্টি এবং চৌধুরী সামিউল হক উপস্থিত ছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হওয়ার পর ছয় মাস সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘সেই ছয় মাসের প্রায় মাঝামাঝি সময়ে আমরা উপস্থিত। এই সময়ে আমরা বিভিন্নভাবেই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করা ছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তার সংক্ষেপ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নিয়ে যোগাযোগ করেছি। দলগুলো তাদের মতামত দিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’