যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় কোনো চুক্তি না হলেও ইরান টিকে থাকতে পারবে। গত সোমবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এমন এক সময় তিনি এই মন্তব্য করেছেন, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সপ্তাহ শেষে হওয়া আলোচনাকে ‘খুব ভালো’ বলে বর্ণনা করেছেন।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিতর্ক নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই চলছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যদি কোনো নতুন পারমাণবিক চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বোমা হামলা চালানো হতে পারে। সংবাদমাধ্যমকে পেজেশকিয়ান বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে না চায় বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, এমন না যে আমরা না খেয়ে মরব। আমরা বাঁচার পথ খুঁজে নেব। এই আলোচনায় উভয় পক্ষের জন্যই ঝুঁকি অনেক।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এ বার্তা দিয়েছেন যে ইরান ইস্যুতে দুই দেশের কৌশল যেন একই রকম হয়। সোমবার ইসরায়েল সফর শেষ করেছেন ক্রিস্টি নোয়েম। পরে ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার খোলামেলা ও সরাসরি আলোচনা হয়েছে। ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, এসব আলোচনার অগ্রগতি কেমন এবং আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোনো কতটা গুরুত্বপূর্ণÑ সেসব নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষভাবে আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।
ট্রাম্প চান ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে। কারণ ইরানের সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে এবং ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে ইরান দাবি করছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুই বেসামরিক উদ্দেশ্যে। তারা চায় তাদের তেল-নির্ভর অর্থনীতির ওপর থাকা ধ্বংসাত্মক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়া হোক।