বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশের জনগণ সাংঘর্ষিক রাজনীতি বা মবোক্রেসি চায় না। রোডম্যাপ দিতে এত ভয় কেন, নির্বাচনে এত ভয় কেন? যাদের নির্বাচনে ভয়, তাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা শেখ হাসিনার পথে চলছে। অনির্বাচিত সরকারের স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার লক্ষণ প্রকাশ হতে শুরু করেছে।’ অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আলোচনা সভায় খসরু এ কথা বলেন।
খসরু বলেন, ‘ভিন্নমত হলেও আমরা সম্মান করতে শিখব। ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দল, সেনাবাহিনী তিনটি শক্তি শেখ হাসিনার পতনে কাজ করেছে। নতুন সরকারকে সাপোর্ট দিয়েছে। শেখ হাসিনা পলায়ন করেছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দেশের মালিকানা ফিরে পাবে, এমন আশায় আমরা বুক বেঁধেছি। জনগণের অধিকারহীন অবস্থায় আসার কথা ছিল না।’
অনির্বাচিত সরকার যদি বেশিদিন ক্ষমতায় থাকে, তবে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য গণমাধ্যমের ওপর চাপ বাড়বে জানিয়ে খসরু বলেন, ‘সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিক। রাজনীতিবিদদের অনুধাবন করতে হবে, আগামীর রাজনীতি আগের মতো হবে না। নাগরিক প্রতিবাদ করতে রাস্তায় আসতে পারবে না। এটা কোনো কথা হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সঙ্গে বিচার, সংস্কার সাংঘর্ষিক নয়। সবগুলো চলমান প্রক্রিয়া। ৫ থেকে ১০ জন মানুষ জনগণকে বাইরে দেশের ভালো বুঝবে, এ তো শেখ হাসিনার মতো কথা হলো।’ কথার মারপ্যাঁচে সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে অভিযোগ করে খসরু বলেন, ‘সংস্কার গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার জন্য। যারা গণতান্ত্রিক অর্ডারে ফিরে যেতে চাচ্ছিলেন, তারা কেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন! কোন কোন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য হয়েছে, তা কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না? সংস্কারের ক্ষেত্রে ঐকমত্য জানার জন্য সব দল প্রস্তুত আছে। জুলাই সনদে সই করার বিষয়েও তৈরি আছে। তবে কথার মারপ্যাঁচ কেন?’
সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ আব্দুন নূরের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।
এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ঢাকাস্থ সেনবাগ জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত ‘সংকট সমাধানের একমাত্র পথ গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘জনগণ আপনাকে সরকারে বসিয়েছে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য। অথচ এখনো সেই নির্বাচনের রোডম্যাপ দেননি। সাড়ে নয় মাস অতিবাহিত হলো, এখনো কেন নির্বাচন নিয়ে আপনার কাছ থেকে সদুত্তর পাই না?’
তিনি বলেন, ‘এই নয় মাসে আপনি (প্রধান উপদেষ্টা) দেশের কী উন্নয়ন করেছেন? মানুষের দাবি-দাওয়া পূরণ করতে পেরেছেন? শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে কোনো উন্নয়ন করেছেন? পারেন নাই বলেই এখন জনগণ নির্বাচন চাচ্ছে। জনগণ আপনাকে সরকারে বসিয়েছে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। অথচ এখনো সেই নির্বাচনের রোডম্যাপ দেননি। নির্বাচনের কথা বললে একটা পক্ষ আমাদের আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী করে। আমরা আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী না। হতে চাইও না। আমরা আপনার সমালোচনাও করতে চাই না। কিন্তু জনগণ এখন আপনার সমালোচনা শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, ‘যে দলের নিবন্ধন নাই, যাদের রাজনীতি ঢাকাকেন্দ্রিক, সেই দলের কথা শুনে যদি আপনি নির্বাচন পেছান, তাহলে এর দায়দায়িত্ব আপনাকেই বহন করতে হবে। আমরা আপনার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, যার মাধ্যমে একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। যারা সংসদে যাবে, পল্লী বিদ্যুৎ, সচিবালয়, বন্দরসহ সবকিছু নিয়ে কথা বলবে ও সমাধান করবে।’
সংগঠনের সভাপতি এ বি এম ফারুকের সভাপতি এ সময় সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।