সিলেটে টিলা ধসে ঘুম থেকে চিরঘুমে পুরো পরিবার

প্রবল ঝড়-বৃষ্টির রাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন রিয়াজ উদ্দিন। সেই ঘুম থেকেই চিরঘুমে চলে গেছে পুরো পরিবার। গত শনিবার মাঝরাতে ঘরের ওপর টিলা ধসে পড়ে আটকা পড়েন রিয়াজ উদ্দিন, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। গতকাল রবিবার সকালে মাটি খুঁড়ে একে একে বের করা হয় তাদের মরদেহ। টিলাধসে মর্মান্তিক এই মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টিলার আশপাশে বসবাসকারী লোকজনের মধ্যে নেমে এসেছে অজানা আতঙ্ক।

টিলাধসে নিহতরা হলো গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের বখতিয়ারঘাট গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন (৫৫), তার স্ত্রী রহিমা বেগম (৪০), মেয়ে সামিয়া বেগম (১৪) ও ছেলে আব্বাস উদ্দিন (৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি উঁচু টিলার নিচে রিয়াজ উদ্দিনের বাড়িটির অবস্থান। পাকা দেয়াল ও টিনের ছাউনির ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রিয়াজ। গত শনিবার রাতে সে ঘরেই তারা ঘুমিয়ে ছিলেন। একটানা প্রবল বৃষ্টি চলাকালে রাত ২টার দিকে টিলার একটি বড় অংশ ধসে রিয়াজ উদ্দিনের ঘরের ওপর পড়ে। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং মাটি সরিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান। কিন্তু তারা কোনোভাবেই সফল হননি। টিলা ধসের খবর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকেও দ্রুত জানানো হয়। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারীরাও সেখানে যেতে অনেক বিলম্ব হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল ৮টার দিকে একে একে চারটি লাশ বের করেন। 

গোলাপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্লা জানান, প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে সড়কে গাছ পড়ে ও জলাবদ্ধ হয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। সেসব বাধা কাটিয়ে উদ্ধারকারীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

তিনি আরও জানান, লাশ চারটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদ জানান, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে লাশ চারটি উদ্ধার করেছে। তিনি প্রবল বৃষ্টিপাতের এ সময় টিলার আশপাশে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলকুর রহমান জানান, রাত ২টার দিকে টিলা ধসের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। ওই সময় স্থানীয় লোকজন অনেক চেষ্টা করেও আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে সমর্থ হননি।