নির্বাচনী এলাকায় নবীন-প্রবীণ নেতারা

ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ফলে দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রথম মুক্ত পরিবেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করছে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক জোট ও দল এবং জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। সেজন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পরিবারে বাড়তি আনন্দ যোগ হচ্ছে। অন্যদিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি তরুণ ও নবীনরা।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে বরাবরই বলা হচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে কয়েকটি রাজনৈতিক দল বাদে বিএনপিসহ অন্য বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জোরালোভাবে তুলছে। তারা নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এবং সেই অনুযায়ী রোডম্যাপও চায়। এমতাবস্থায় দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি তারুণ্যের সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে ডিসেম্বরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনী মাঠ সমতল হলে জামায়াতে ইসলামী যেকোনো সময় নির্বাচনে অংশ নেবে। ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে দলটি। ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) নিজ নিজ আসনে নেতাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছে। সব মিলিয়ে ঈদুল আজহা ভোট রাজনীতির জমজমাট ঈদে পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা।

জানা গেছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারের পাশে ঈদউপহারও পৌঁছে দিচ্ছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ ক্ষেত্রে ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর মাধ্যমে উপহার দেওয়া হচ্ছে। দলের অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগে ঈদ উপলক্ষে উপহারসামগ্রী বিতরণ করছেন। বন্যা পূর্বাভাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকে সহযোগিতার জন্যে তারেক রহমান ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন।

দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এবারের ঈদে বিএনপির বার্তা হলো নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপন করবেন। বিশেষ করে আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনেক সতর্ক থাকতে হবে।’

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঢাকায় গুলশানের ভাড়াবাসা ফিরোজায় আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। গত ৬ মে, চিকিৎসা শেষে দুই পুত্রবধূ-বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমানের (কোকো) স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে  ফেরেন। ইতিমধ্যে সৈয়দা শামিলা রহমান দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে নিয়ে আমেরিকা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে ডা. জোবাইদা রহমানের। সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছেন স্বামী তারেক রহমান এবং তাদের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জেইমা রহমান। তারা এবার যুক্তরাজ্যে ঈদ করবেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানী ঢাকার গুলশান আজাদ মসজিদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গুলশান সোসাইটি মসজিদ, মির্জা আব্বাস শাহজানপুর ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কেরানীগঞ্জে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদীর পলাশ, নজরুল ইসলাম খান বনানী ডিওএইচএস মসজিদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম, সালাহউদ্দিন আহমেদ কক্সবাজারে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। ঢাকায় থাকছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। স্থায়ী কমিটির সদস্য পর্যায়ক্রমে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ বনানীর বড় মসজিদ ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ধানমন্ডিতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ও বেগম সারোয়ারী রহমান গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাসায় আছেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঈদের দিন সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। পরে রাতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির নেতারা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার কথা রয়েছে।

ঢাকা বিভাগের নেতাদের মধ্যে আবদুস সালাম পিন্টু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আহমেদ আজম খান, আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুস সালাম আজাদ, মাহাদী আমিন, সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিনুল হক, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম প্রমুখ নিজ নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপি নেতারা গত রমজানের ঈদেও নিজ নিজ এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন। এবারও তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে যাবেন।