দুদিন ধরে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু বরগুনায়

দুদিন ধরে দেশে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে বরগুনায়। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) যে ১০৮ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের মধ্যে ৭৯ জনই বরগুনায়, যা দিনের মোট রোগীর ৭৩ শতাংশ। এর আগে গত বুধবারও দিনের মোট রোগীর ৭০ শতাংশই ছিল বরগুনায়। সে অনুপাতে গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় রোগী আরও ৩ শতাংশ বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বরিশালে ভর্তি হয়েছে ৮৯ জন, যা দিনের মোট রোগীর ৮২ শতাংশ। এরপর ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১০, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৪, ঢাকা বিভাগে ৩ এবং ঢাকা উত্তর সিটি ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

এ নিয়ে এ মাসে চার দিন ডেঙ্গু রোগী একশর ঘর পেরোল। এর মধ্যে গত বুধবার ছিল বছরের সর্বোচ্চ ২৮৮ জন রোগী। এ ছাড়া ১ জুন ১৪৭, ৩ জুন ১১৪ ও সর্বশেষ গতকাল ১০৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হলো।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৪১১ ও মারা গেছে ২৩ জন। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হয়েছে মে মাসে, ১ হাজার ৭৭৩ জন। এরপর জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১, এ মাসে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬, এপ্রিলে ৭০১, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ ও মার্চে ৩৩৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।

এ বছর ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১০ জন মারা গেছে জানুয়ারিতে। এরপর এপ্রিলে ৭ এবং ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে ৩ জন করে মারা গেছে।

দেশে ২০২৩ সালের জুন থেকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সে বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। এ সংখ্যা গত ২৩ বছরের ডেঙ্গুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ওই বছরের মোট রোগীর মধ্যে ঢাকায় ১ লাখ ১০ হাজার ৮ এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নেয় ২ লাখ ১১ হাজার ১৭১ জন। এরপর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৫ জন মারা যায়। মৃত্যুর এ সংখ্যাও দেশে ডেঙ্গুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৯ সালে দেশব্যাপী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। ওই সময় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জন মারা যান। ২০২০ সালে করোনা মহামারীকালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয় ২৮ হাজার ৪২৯ জন। ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ১০৫ জন। এ ছাড়া ২০২২ সালে ডেঙ্গু নিয়ে ৬২ হাজার ৩৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয় ও মারা যায় ২৮১ জন।