পাওনা টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধাকে নির্যাতন, কেটে দেওয়া হয় মাথার চুল

ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মধ্যম কাছাড় গ্রামে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে নির্মমভাবে পেটানো এবং মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই বৃদ্ধা সখিনা বেগমের ওপর এই বর্বরতা চালিয়েছেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল এবং তাঁর স্ত্রী নাজমা আক্তার। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নিজেই ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।

মামলার ভিত্তিতে পুলিশ শুক্রবার (১৩ জুন) এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত বেলাল ও তাঁর স্ত্রী নাজমা এখনো পলাতক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সখিনা বেগম তাঁর পাওনা টাকা চাইলে আইয়ুবের উসকানিতে বেলাল ও নাজমা তাঁর বাড়িতে গিয়ে মারধর শুরু করেন। প্রথমে বেলাল ও নাজমা তাঁকে ঘুষি ও লাথি মারেন এবং মাটিতে ফেলে দেন। এরপর নাজমা তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানতে থাকেন, আর বেলাল হাতে থাকা ধারালো কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেন।

তারা এখানেই থেমে থাকেনি। কাঠের তৈরি একটি চৌকাঠ দিয়ে সখিনার শরীরের নানা স্থানে আঘাত করে। এতে তাঁর গলার একটি হাড় ভেঙে যায় এবং ডান হাতে গুরুতর জখম হয়। তাঁর আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের মুসল্লি ও স্বজনেরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান জানান, “দায়ের করা মামলায় আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুই আসামি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।”