পান-চায়ের বিল নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা খুন

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৫, ১২:১৯ এএম

মাত্র ১০ টাকার পানের বিলকে কেন্দ্র করে প্রাণ গেল ছাত্রদল নেতার। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীরকে (২৪) আজ শুক্রবার বিকেলে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত হুমায়ুন উপজেলার সোনাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা, তাঁর বাবার নাম আব্দুল কাইয়ুম।

সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আমিন রতনের জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হুমায়ুন কবীর ও সোহাগ মিয়া বাড়ি থেকে পাচার বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে রানা ও বাদল তাদের গতিরোধ করে। হুমায়ুন দৌঁড়ে আশ্রয় নেন তারা মিয়ার চায়ের দোকানে। সেখানেই তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সোহাগ মিয়া জানান, তিনি ও হুমায়ুন একসঙ্গে বাজারে যাচ্ছিলেন। সোনাকান্দি গ্রামের আব্দুর রাশিদ মাস্টারের বাড়ির পাশে পুকুরের কাছে পৌঁছালে একই গ্রামের আব্দুল কদ্দুছের ছেলে বাদল মিয়া ও শামসুল হকের ছেলে রাশেদুল রানা তাঁদের পথ আটকে হুমায়ুনকে ধাওয়া করে। হুমায়ুন জীবন বাঁচাতে তারা মিয়ার দোকানে ঢুকে পড়লে সেখানেই তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। সোহাগ বলেন, “আমি বাধা দিলেও ওদের থামাতে পারিনি। এটা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”

তিনি আরও বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সহনাটী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আবুল কাসেমের দোকানে পান কেনাকে কেন্দ্র করে রানা ও বাদলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সেই সময় হুমায়ুন বিষয়টি মিটিয়ে দেন এবং ১০ টাকা পরিশোধ করে চলে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করা হয় বলে দাবি সোহাগের।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোনায়েদ খান পাঠান সাব্বির বলেন, “হুমায়ুন কবীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” তিনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন, যা উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত