প্রথম ইনিংসে ৮৪ বল ক্রিজে থেকে ৩৬ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় দিনশেষে ১২১ বলে অপরাজিত ৬৫। চোকার্স তকমা ছোটানোর প্রত্যয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার বীরত্ব শুধু এই সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা সমীচিন হবে না। কেন যথার্থ হবে না, তার উত্তর পাওয়া যাবে প্রোটিয়া ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্সের জবানীতে। প্রিন্স জানান, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের তৃতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেম্বা বাভুমার হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট লাগার পরেও তিনি এবং এইডেন মার্করাম উভয়েই জোর দিয়েছিলেন যে অধিনায়ক যেন মাঠ না ছাড়েন।
অথচ দল চেয়েছিলো বাভুমা যেন মাঠ ছেড়ে উঠে আসেন। কেননা এই চোটের কারণে দুই উইকেটের মধ্যে দৌড়ানো কঠিন হয়ে যেত। কিন্তু মার্করাম পরিস্থিতি সামলে নিতে রাজি ছিলেন। বাভুমা এই চোটে পড়েন যখন তিনি মাত্র ৬ রানে ব্যাটিং করছেন। লাঞ্চ বিরতির সময় ফিজিওরা তার চিকিৎসার পেছনে লম্বা সময় নেন। যখন তিনি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি ক্রমাগত খুঁড়িয়ে চলছিলেন। এর পরও এ জুটি ব্যাটিং করে যান এবং শেষ পর্যন্ত ১৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেন।
প্রিন্স বলেন, ‘তাকে ব্যাটিং চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে আমাদের একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। কারণ এটি তার স্ট্রোকপ্লে এবং মার্করামের ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারতো। দুই রানের সুযোগগুলো এক রানে পরিণত হচ্ছিল অথবা তারা দুই বা তিন রান নিতে পারছিল না। কিন্তু তারা দুজনেই জেদ ধরেছিল যে টেম্বা খেলা চালিয়ে যাবে। সে নিজেও খেলতে চেয়েছিল।’
বাভুমার পাশাপাশি মার্করামের বীরত্বও লর্ডস টেস্টে প্রবল ভূমিকা রেখেছে প্রোটিয়াদের এ অবস্থানে আসার পেছনে। একটি মাত্র আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (তখনকার নকআউট ট্রফি) জেতার পর এই মার্করামের নেতৃত্বেই একবার মাত্র যুব বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তার পর এবারই প্রথম কোনো আইসিসি শিরোপা জেতার দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকা মার্করামদের এ জন্য প্রয়োজন আর মাত্র ৬৯ রান, হাতে রয়েছে ৮ উইকেট।