বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) আদল আমূল বদলে ফেলার পরিকল্পনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বর্তমানের ৯ দলের পরিবর্তে ১২ দলকে নিয়ে আগামী চক্র সাজানোর কথা ভাবছে তারা। আর এই সম্প্রসারিত মডেলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে থাকা তিন পূর্ণ সদস্য দেশ— জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড।
আইসিসির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ১২ দলের লড়াইকে বাস্তবসম্মত করতে বড় এক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হতে হলে একটি সিরিজ অন্তত দুই ম্যাচের হতে হয়। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টোসের নেতৃত্বাধীন আইসিসি ওয়ার্কিং গ্রুপ সুপারিশ করতে যাচ্ছে যে, এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজকেও যেন ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মূলত অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতেই এই প্রস্তাব। বড় দলগুলো যখন জিম্বাবুয়ে বা আয়ারল্যান্ডের মতো ছোট দলগুলোকে আতিথেয়তা দেয়, তখন দুই বা তিন ম্যাচের সিরিজ আয়োজন অনেক ক্ষেত্রে লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ চালুর ফলে বড় দলগুলোর সূচিতে ছোট দলগুলোকে জায়গা দেওয়া সহজ হবে। যেমন—ইংল্যান্ড তাদের ঠাসা সূচির মাঝেও একটি এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ অনায়াসেই আয়োজন করতে পারবে।
২০১৯ সালে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হলেও জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এই লিগের বাইরে ছিল। ফলে অন্য বড় দলগুলোর বিপক্ষে তাদের টেস্ট খেলার সুযোগ ছিল খুবই সীমিত। নতুন এই মডেলে তারা নিয়মিতভাবে শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে। আইসিসি ওয়ার্কিং গ্রুপের এই সুপারিশ চলতি মাসের শেষ দিকে বা মে মাসের শুরুতে আইসিসি বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হবে।
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দোহার নির্ধারিত আইসিসি সভাটি স্থগিত করা হয়েছিল। ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য ওই বোর্ড সভায় দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এর একটি হলো- এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি-না এবং অন্যটি ছোট দেশগুলোর জন্য টানা দুই বছর টেস্ট খেলার এই আর্থিক চাপ বহন করা সম্ভব কি না। এই দুটি প্রশ্নের জবাব মিললেই হয়তো আমুল বদলে যেতে পারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ।
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ দেখা যাবে ২০০ টাকায়
বৈভবের তাণ্ডবে মুগ্ধ কোহলি দিলেন উপহার