২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। সাড়ে ৩ বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত এখন একটি ক্লান্তিকর যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও খারকিভ অঞ্চলে ধীর গতির অগ্রগতি অর্জন করলেও, ইউক্রেনের প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন তাদের যুদ্ধে টিকিয়ে রেখেছে। তবে, মার্কিন নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং ইউক্রেনের জনশক্তির সংকট এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য, রাশিয়া ২০২৪ সালে দোনেৎস্ক অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যেখানে তারা প্রায় ৪ হাজার ১৬৮ বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড দখল করেছে। তবে, এই অগ্রগতির জন্য তাদের মূল্য দিতে হয়েছে প্রায় ৪২০,০০০ সৈন্যের হতাহতের মাধ্যমে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা ঐতিহাসিকভাবে একটি ভয়াবহ মাইলফলক। রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হলেও, তারা পোক্রোভস্ক ও কোস্টিয়ান্টিনিভকার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে আক্রমণ তীব্র করেছে, যা দোনেৎস্ক অঞ্চল দখলের জন্য তাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা কৌশল, বিশেষ করে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার, রাশিয়ার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ইউক্রেন ২০২৪ সালে কুর্স্ক অঞ্চলে একটি সাহসী আক্রমণ চালিয়েছিল, যা দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের পর রাশিয়ার ভূখণ্ডে প্রথম উল্লেখযোগ্য বিদেশি আক্রমণ। এই অভিযানে ইউক্রেন ১ হাজার ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছিল, যদিও রাশিয়া পরে এর অর্ধেক পুনরুদ্ধার করে। ইউক্রেনের এই আক্রমণ রাশিয়ার সামরিক দুর্বলতা প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে তাদের এয়ারবেস ও কৌশলগত স্থাপনার ওপর ড্রোন হামলার মাধ্যমে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন এই সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন সামরিক সহায়তা হ্রাসের ঘোষণা ইউক্রেনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জার্মানি ২০২৫ সালে ইউক্রেনকে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউরোর অতিরিক্ত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আংশিকভাবে মার্কিন সহায়তার ঘাটতি পূরণ করতে পারে। সবকিছুর পরও ইউক্রেন জনশক্তির সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, কারণ তাদের জনসংখ্যা রাশিয়ার তুলনায় অনেক কম। ইউক্রেন ১৮-২৫ বছর বয়সী যুবকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ থেকে বিরত থাকছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি না হয়।