সিলেটে দুই উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ

সিলেটের পর্যটন শিল্প বিকাশে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পর্যটকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে নান্দনিক ও নৈসর্গিক আবেদন রয়েছে- সিলেটের এমন কোনো পাথর কোয়ারি পাথর উত্তোলনের জন্য আর ইজারা দেওয়া হবে না। তবে কোয়ারি-সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। গতকাল শনিবার সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ফায়জুল কবির খান, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মোহাম্মাদ রেজা-উন-নবী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাফলং পরিদর্শন শেষে পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, জাফলং একটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। এখানকার পাথর কোয়ারিগুলো থেকে নির্বিচারে পাথর তুলে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। এসব বন্ধ করে পরিবেশ বাঁচাতে হবে, পর্যটকের জন্য উপযোগী পািরবেশ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সিলেটের পর্যটন নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

খনিজসম্পদ উপদেষ্টা ফায়জুল কবির খান বলেন, ১৯৭১ সালে আমার বাবা সিলেটের এমসি কলেজে পড়াতেন। ওই সময় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তখন জাফলংয়ে বেড়াতে এসেছিলাম। অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর এই এলাকাটিকে এখন রীতিমতো ধ্বংস করা হয়েছে। পাথর ভাঙার মেশিনগুলো সর্বনাশ করে দিচ্ছে। এখন থেকে আর পাথর উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। পাথর ভাঙার মেশিনগুলোও উচ্ছেদ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি।

এদিকে পাথর কোয়ারি নিয়ে দুই উপদেষ্টার এমন বক্তব্যে ইজারাদার, পাথর ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ কোয়ারি-সংশ্লিষ্ট লোকজন নাখোশ হয়েছেন। সরকারের দুই উপদেষ্টা জাফলং থেকে ফেরার পথে তাদের গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় একদল লোক উপদেষ্টাদের উদ্দেশ করে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেন। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে উপদেষ্টাদের গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি তোফায়েল আহমদ জানান, স্থানীয় কিছু লোক আকস্মিকভাবে উপদেষ্টাদের গাড়ি আটকে দেয়। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ দ্রুত ওই লোকদের সরিয়ে উপদেষ্টাদের যাত্রাপথ নির্বিঘ্ন করে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, কতিপয় লোক সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। পুলিশ দ্রুত তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। বড় কোন বিশৃঙ্খলা হয়নি।

দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি বাপার :

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা  সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের গাড়িবহরে হামলা ও অবরোধের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির গতকাল যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, জাফলং একটি প্রাকৃতিক নান্দনিকতা ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা। এই অঞ্চল রক্ষায় আর কোনো পাথর উত্তোলনের জন্য ইজারা না দেওয়ার ঘোষণাকে বাপা স্বাগত জানায়। এতে বলা হয়, সিলেটের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে পরিচিত জাফলংয়ে পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের নিরপেক্ষ ও বাস্তবভিত্তিক পর্যবেক্ষণমূলক পরিদর্শন একটি সময়োপযোগী এবং সাহসী পদক্ষেপ। অথচ দায়িত্ব পালনের সময় কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হামলা ও সেøাগানের মাধ্যমে অবরোধ সৃষ্টির ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা শুধু আইনবিরোধীই নয়, বরং তা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। বাপা এ ঘটনার দ্রুত,  নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ দাবি জানায়। একই সঙ্গে জাফলংসহ সিলেট অঞ্চলের সব পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং স্থানীয় জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।