ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেনারো গাত্তুসো। সদ্য বিদায়ী কোচ লুচিয়ানো স্পালেত্তি সংবাদ সম্মেলনে নিজেই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এই চমকপ্রদ নিয়োগ দিয়েছে ইতালির ফুটবল ফেডারেশন।
"গাত্তুসো ইতালিয়ান ফুটবলের প্রতীকস্বরূপ এক নাম। তার নেতৃত্বে নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করবে আজ্জুরিরা", এক বিবৃতিতে বলেছে ফেডারেশন
২০০৬ সালে জার্মানিতে বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন গাত্তুসো। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে হতাশাজনক সূচনার পর দায়িত্ব পেলেন এই সাবেক মধ্যমাঠের লড়াকু সৈনিক।
৪৭ বছর বয়সী গাত্তুসোর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—আত্মবিশ্বাস ও পরিচয় হারানো ইতালি দলকে ঘুরে দাঁড় করানো। সম্প্রতি ছাঁটাই হওয়া লুচিয়ানো স্পালেত্তির জায়গায় নিয়োগ পাওয়া গাত্তুসোর দায়িত্ব আরও বেড়েছে, কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইতালি এখন গ্রুপ ‘আই’-তে তৃতীয় স্থানে।
তবে মাঠের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা এবং ডাগআউটের কৌশলী পরিপক্বতা—দুটোই রয়েছে ৪৭ বছর বয়সী এই কোচের ঝুলিতে। ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জাতীয় দলের জার্সিতে ৭৩টি ম্যাচ খেলেছেন গাত্তুসো। খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপে। ২০০৬ সালে বার্লিনে ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতালিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানানো দলে ছিলেন তিনি, ছিলেন মাঝমাঠের নির্ভরযোগ্য সেনানী।
কোচ হিসেবে তার ক্যারিয়ার বেশ ভ্রমণমুখী—গত ১২ বছরে ৯টি ক্লাবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এসি মিলান, নাপোলি, ভ্যালেন্সিয়া, মার্সেই হয়ে সবশেষ ছিলেন ক্রোয়েশিয়ার হাইডুক স্প্লিটে। চলতি মাসের শুরুতে পারস্পরিক সমঝোতায় সেখান থেকে বিদায় নিয়েছেন।
সবচেয়ে সফল সময় ছিল নাপোলিতে—২০২০ সালে দলকে কোপা ইতালিয়ার শিরোপা এনে দেন, জিতেছিলেন মোট ম্যাচের ৫৬.৭৯ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ৩৭৬টি ম্যাচে দায়িত্ব নিয়ে জয় পেয়েছেন ১৬১টিতে, ড্র ১০৮টি এবং হেরেছেন ১০৭টি ম্যাচে। তার কোচিং ক্যারিয়ারের জয় অনুপাত ৪২.৮২ শতাংশ।