ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে গতকাল সোমবার মতবিনিময় সভা করেছেন ‘মেয়র’ ইশরাক হোসেন। ডিএসসিসির ভেতরে অর্থাৎ নগর ভবনের একটি অডিটরিয়ামে এ সভার আয়োজন করা হয়। মাসাধিককালের বিক্ষোভ, সেøাগান, মিছিল, সমাবেশ শেষে ঢাকাবাসী জনসাধারণের মেয়ররূপে ডিএসসিসির এমন একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করলেন ইশরাক।
অনুষ্ঠানে টানানো ব্যানারেও ইশরাককে ‘মাননীয় মেয়র’ বলে উল্লেখ করা হয়। মেয়র হিসেবে এখনো আনুষ্ঠানিক শপথ হয়নি তার। একই সঙ্গে আগামী দুদিন সিরিজ বৈঠকের কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি জানান, এরপর ওয়ার্ড সচিব এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, “শুধু নগর ভবনের এ অনুষ্ঠান নয়, যেকোনো অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানালে আয়োজকরা ব্যানারে আমাকে মেয়র অভিহিত করেন। বিষয়টি নগর ঢাকার ‘জনগণের দাবি’।”
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে এটা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। যারা বিষয়টি নিয়ে কথা তোলার চেষ্টা করছেন তাদের বলব, তারা যেন নিজেদের জ্ঞান আরেকটু পরিমার্জিত করে সমৃদ্ধ করে কথা বলেন। কারণ নির্বাচন কমিশন যে গেজেট প্রকাশ করেছে, সেখানে স্পষ্টভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।’
মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ সম্পন্ন করার দাবিতে আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক, সরকারের সাবেক সচিব মশিউর রহমান গতকালের সভার দুটি ছবি যুক্ত করে তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘১৬ জুন, ২০২৫ তারিখ সকাল ১১টায় পরিচ্ছন্ন ঢাকা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতকল্পে নগর ভবন মিলনায়তনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাগণের সাথে মতবিনিময় করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মাননীয় মেয়র প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।’
তবে ওই সভায় ডিএসসিসির কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। কয়েকজন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শক (সিআই), কর কর্মকর্তাসহ আন্দোলনকারী শ্রমিক দল এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এক মাসের বেশি সময় হবে আমরা দপ্তরে যেতে পারি না। সেখানে করপোরেশনের বাইরে থেকে আহ্বান করা সভায় যোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়ম অনুযায়ী মেয়র নির্বাচিত হলে শপথ পড়ানোর পর তিনি (ইশরাক) আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেবেন। এরপর আমরা তার ডাকা সভায় যেতে পারি। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে এ ধরনের সভায় যোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে নগর ভবন তালাবদ্ধ থাকায় কোরবানির ঈদে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ বিশেষ ব্যবস্থায় করছে সিটি করপোরেশন। সম্প্রতি জলাবদ্ধতা নিরসনে কাকরাইলের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়, যা আগে নগর ভবন থেকে পরিচালিত হতো। ডেঙ্গু ও মশা নিধন নিয়ে আরও একটি সভা ঢাকা ওয়াসা ভবনে করা হয়েছে। তাছাড়া জানা যাচ্ছে, ডেঙ্গু ব্যাপক আকারে ছড়ালেও দাপ্তরিক কোনো কাজ করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মতবিনিময় সভার প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন ধরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকা শহরকে নিরাপদ রাখার জন্য মশক নিধন যে কর্মসূচি রয়েছে নগর ভবনের, সেটিা বেগবান করার জন্য ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করছি। পর্যায়ক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটির সব বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করব।’
তিনি বলেন, সেবা কার্যক্রম শুরু করলেও এ ক্ষেত্রে আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। নগর ভবনের ফটকে তালা ঝুলবেই। এ সংকট সমাধানে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর অনুমতি দিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ চান ইশরাক। না হলে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালু থাকবে বলে জানান।