রাজস্ব খাতে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবিরাম অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে দেশের একাধিক রাজনৈতিক দল। দলগুলোর শীর্ষনেতারা বলেন, হাজারো নারীর ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করা গণতন্ত্রবিরোধী ও অমানবিক। তারা সরকারের প্রতি অবিলম্বে আলোচনায় বসে যৌক্তিক সমাধানের আহ্বান জানান।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিভিন্ন দলের নেতারা এসব কথা বলেন।
অনশনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার দাবি আদায়ের পথ বন্ধ করে দিয়েছে, যা একটি নতুন দমনমূলক সময়ের ইঙ্গিত বহন করে। আন্দোলন ছাড়া সাধারণ মানুষের দাবির প্রতি সরকারের কোনো নজর নেই। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তথ্য আপা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করছে। এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞ জনবল হিসেবে পরবর্তী ধাপে যুক্ত করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। শুধু দলীয় সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে তাদের বাদ দেওয়ার চিন্তা করলে রাষ্ট্রের সর্বত্র সংকট তৈরি হবে।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-র চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, প্রায় বিশ দিন ধরে আমরা দেখছি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আমাদের বোনেরা ন্যায্য দাবির জন্য রোদে অবস্থান করছেন। কিন্তু সরকার উদাসীন। জনগণের কথা শোনা এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, আজ যদি হাজারো নারী প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন বা কার্যালয় ঘেরাও করতেন, তাহলে হয়তো সরকারের মনোভাব বদলাতো। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে তথ্য আপা প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে ন্যায্য সমাধানের উদ্যোগ নিন।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিন বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত এত সংখ্যক নারীকে দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি অযাচিত ও অমানবিক সিদ্ধান্ত। আমরা নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন, তাদের বক্তব্য শুনুন। প্রকৃত অপরাধী ও ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের চিহ্নিত করুন। সবাইকে একই সূত্রে গেঁথে অপমান ও বঞ্চনার শিকার করা অন্যায়।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা দিদারুল ভূঁইয়া, নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ্ কায়সার এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এ সময় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা সবাই দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে তথ্য আপা কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি পূরণের আহ্বান জানান।
সংহতি সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা দিদারুল আলম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন দলের নেতারা। তারা আন্দোলনরত কর্মীদের সমাবেশে যোগ দেন এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করে সংহতি প্রকাশ করেন।