শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরবিদায় নিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও গণফোরামের সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু। গতকাল সোমবার রাজধানী ও কেরানীগঞ্জে তিনটি জানাজার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীরা। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বিকেল ৫টায় বনানী কবরস্থানে মা ও ভাইয়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
গত রবিবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওই রাতে এলিফ্যান্ট রোডের একটি মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় জানাজার পর তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আনা হয়, যেখানে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে। এখানে তৃতীয় জানাজায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রাজনৈতিক নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল, জাসদ সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দিদারুল হক ভূইয়া, জনঅধিকার পার্টির ইসমাইল সরদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। গণফোরামের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক, আলতাফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম, মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সানজিত রহমান চৌধুরী, স্বাস্থ্য সম্পাদক আজম রুপুসহ ঢাকা মহানগর ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মন্টু নীতির সঙ্গে কখনো আপস করেননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তিনি অবিচল ছিলেন এবং ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন’।
১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণকারী মন্টু আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি নৌকা প্রতীকে ঢাকা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছাত্রলীগ, যুবলীগের চেয়ারম্যান, ঢাকা জেলা ও অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বাদ পড়ার পর তিনি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরামে যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে দলটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে তিনি ঢাকা-২ ও ৩ আসনে গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে এবং ঢাকা-৭ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
দাফনের সময় তার ছেলে কনক মোস্তফা, ভাই তৌফিক এহসানসহ পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।