ক্লাব বিশ্বকাপের গ্রুপ সি’র প্রথম ম্যাচেই উত্তেজনার চূড়ান্ত নিদর্শন রেখে গেল দুই ঐতিহ্যবাহী দল বোকা জুনিয়র্স ও বেনফিকা। ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ গোলে, তবে এই ফলাফলের চেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে লাল কার্ডের ছড়াছড়ি ও রেফারিং বিতর্ক।
হার্ড রক স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ক্লাব বোকা জুনিয়র্স প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। ১২তম মিনিটে গোল করেন মিগুয়েল মেরেনতিয়েল। ২৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রদ্রিগো বাত্তাগলিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় পর্তুগিজ জায়ান্টরা। ৬৪তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান আনহেল ডি মারিয়া। ৮৪তম মিনিটে তারই জাতীয় দলের সতীর্থ ও সতীর্থ ক্লাব সঙ্গী নিকোলাস ওতামেন্দি হেডে সমতা ফেরান।
এই ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়। প্রথমটি আসে প্রথমার্ধের শেষ দিকে, যখন বোকা জুনিয়র্সের বেঞ্চে থাকা সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও পিএসজি তারকা আন্দের এররেরা ভিএআর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে সিকিউরিটির বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করেন। ঘটনাটি রেফারিকে জানানো হলে তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়, যদিও তিনি আগেই ইনজুরির কারণে বদলি হয়েছিলেন।
দ্বিতীয় লাল কার্ডটি আসে ৭০তম মিনিটে, বেনফিকার আন্দ্রেয়া বেলোত্তির উচ্চ বুট প্রতিপক্ষের মাথায় লেগে যাওয়ায়। প্রাথমিকভাবে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিএআর দেখে রেফারি সিজার আর্তুরো রামোস সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে লাল কার্ড দেন।
তৃতীয় ও শেষ লাল কার্ড আসে ৮৮তম মিনিটে, বোকার হোর্হে ফিগাল বেঞ্চের সামনে বেনফিকার এক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে দেরিতে ও রুক্ষ ট্যাকল করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।
ম্যাচ শেষে হতাশা প্রকাশ করেন বেনফিকার উইঙ্গার ডি মারিয়া। তিনি বলেন, “আমরা জিততে চেয়েছিলাম। প্রথমার্ধে খারাপ খেলেছি, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ভালোই ফিরেছি। দুর্ভাগ্যবশত, জয়টা ধরা দেয়নি। রেফারি খুব বেশি ফিজিকাল খেলা মেনে নিয়েছেন, আরও আগে হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল। এটা আরও সুন্দর খেলা হতে পারত।”
এই টুর্নামেন্ট খেলেই বেনফিকা ছেড়ে শৈশবের ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালএ ফিরছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী।